সমুদ্রে ভাসমান একটি প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘিরে মানুষের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, জাহাজে আক্রান্তদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের কারণে সীমিত পরিসরে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে, যদিও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
ডব্লিউএইচও-এর মহামারি প্রস্তুতি ও প্রতিরোধ বিভাগের পরিচালক মারিয়া ভ্যান কারখোভ বলেছেন, ‘কিছু আক্রান্ত ব্যক্তি একে অপরের খুব কাছাকাছি ছিলেন। তাই সতর্কতার অংশ হিসেবে আমরা মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছি না।’ তবে তিনি জোর দিয়ে জানান, সাধারণ মানুষের জন্য এই ভাইরাসের ঝুঁকি কম এবং এই ভাইরাস করোনা বা ফ্লু-এর মতো দ্রুত ছড়ায় না।
মঙ্গলবার (৫ মে) সিএনএন জানিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১৫০ জন যাত্রী ও ক্রু পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে আটকে পড়া এমভি হন্ডিয়াস নামের ওই প্রমোদতরীতে অবস্থান করছেন। জাহাজটি পরিচালনা করছে ‘ওসানওয়াইড এক্সপিডিশন্স’। গত মাসে আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করে এটি আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার পথে কয়েকটি দূরবর্তী দ্বীপে থেমেছিল। যাত্রাপথেই কয়েকজন যাত্রী শ্বাসতন্ত্রজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রমোদতরিটিতে এখন পর্যন্ত সাতটি হান্টাভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে—এর মধ্যে দুটি নিশ্চিত এবং পাঁচটি সন্দেহজনক। ইতিমধ্যে তিনজন মারা গেছেন, যাদের মধ্যে এক ডাচ দম্পতি এবং একজন জার্মান নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া একজন ব্রিটিশ নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকায় নিবিড় পরিচর্যায় আছেন। তাঁর অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
বর্তমানে জাহাজে উপসর্গ থাকা দুই ব্যক্তিকে দ্রুত সরিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা সরঞ্জামসমৃদ্ধ বিমানের মাধ্যমে তাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। এরপর জাহাজটিকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ মহামারি তদন্ত ও জীবাণুমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
জাহাজে ইতিমধ্যে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি চালু করা হয়েছে। সংক্রমিতদের আলাদা রাখা, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত এবং যাত্রীরা মোটামুটি শান্ত রয়েছেন। তবে প্রমোদতরিটিতে যাত্রী হিসেবে থাকা ভ্রমণ ভ্লগার জেক রোজমারিন সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে ভয় ও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হান্টাভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের মূত্র, লালা বা মলের সংস্পর্শে ছড়ায়। তবে এই ঘটনায় সম্ভাব্য মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের ইঙ্গিত নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।