পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে বিক্ষোভ চলাকালে মার্কিন মেরিন সেনারা সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। চলতি সপ্তাহে সংঘটিত এই সহিংসতায় অন্তত ১০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। এই প্রথম কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর মার্কিন মেরিন সেনাদের সরাসরি গুলি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলো।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে মেরিন সেনাদের ছোড়া গুলিতেই কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া ওই সময় মিশন রক্ষায় নিয়োজিত বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী বা স্থানীয় পুলিশ গুলি চালিয়েছিল কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ জনতা করাচি কনস্যুলেটের বাইরের নিরাপত্তা দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। সে সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ১০ জনের মৃত্যু হয়। সিন্ধু প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র সুখদেব আসরদাস হেমানি ‘নিরাপত্তা বাহিনী’ গুলি চালিয়েছে বলে জানালেও তাঁরা কোন বাহিনীর সদস্য তা নির্দিষ্ট করেননি।
পাকিস্তানে সব ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল
এই ঘটনার পর উদ্ভূত ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ বিবেচনা করে পাকিস্তানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের সব ভিসা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে। রাজধানী ইসলামাবাদে দূতাবাসসহ লাহোর ও করাচির কনস্যুলেটগুলোতেও এই আদেশ কার্যকর হবে।
মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৬ মার্চ (শুক্রবার) পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে। উদ্ভূত অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজেদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে করাচির এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানজুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।