হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

৪৭ বছর পর ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম আলোচনা শনিবার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা হবে শনিবার। এই শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গতকাল বুধবার এমনটাই জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট। বিপরীতে ইরানি পক্ষের নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, এই বিষয়টির গুরুত্ব এখানেই যে,১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। এমন এক সময় এই আলোচনা হচ্ছে, যখন যুদ্ধবিরতি আলোচনা একটি সংকটপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে—যেখানে ব্যর্থতা মানেই আবার যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং তা আরও তীব্র হয়ে ওঠার ঝুঁকি।

এই মিশনটি জেডি ভ্যান্সের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন দায়িত্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এতে তার সেই অবস্থানের পরীক্ষা হবে—যেখানে তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রাধান্য দিতে চান। গতকাল বুধবার হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে ভ্যান্স বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দ্রুত অগ্রগতি চান। তিনি সতর্ক করে দেন, যদি ইরানি কর্মকর্তারা সৎভাবে আলোচনায় অংশ না নেন, তাহলে তারা বুঝে যাবে যে ট্রাম্প ‘সহজে ছাড় দেওয়ার মানুষ নন।’

হোয়াইট হাউসের মতে, ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও আলোচনায় অংশ নেবেন।

এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে পারেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বর্তমান পরিস্থিতিতে, লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলা তেহরানের তীব্র নিন্দা কুড়িয়েছে। ইরানের দাবি, এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।

আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন, হামলা চলতে থাকলে তেহরান যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসতে পারে। তিনি লেখেন, ‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নিতে হবে: যুদ্ধবিরতি নাকি ইসরায়েলের মাধ্যমে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া। দুটো একসঙ্গে সম্ভব নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘লেবাননে গণহত্যা বিশ্ব দেখছে। এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে—তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, সেটাই দেখার।’

তবে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবাননের হামলা আলোচনাকে বিপদের মুখে ফেলবে বলে তারা এখনই মনে করছেন না। লেভিট সাংবাদিকদের বলেন, সব পক্ষকে জানানো হয়েছে যে লেবানন এই যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ নয়। তিনি আরও বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবেন, তবে আপাতত লেবানন এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

শান্তি আলোচনার ভিত্তি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট। বুধবার ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে কাধিক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া প্রস্তাবের সঙ্গে মিলছে না। এসব বিষয় ‘বন্ধ দরজার আড়ালে’ আলোচনা হবে। তিনি বলেন, ‘এই ১০টি পয়েন্টই সেই ভিত্তি, যার ওপর আমরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছি। এগুলো যুক্তিসংগত এবং সহজেই সমাধানযোগ্য।’

এক ব্রিফিংয়ে ক্যারোলিন লেভিট নিশ্চিত করেন, ইরানের পাঠানো ১০ দফা পাল্টা প্রস্তাব প্রথমে প্রত্যাখ্যান করা হয়। পরে মধ্যস্থতাকারীরা তা সংশোধন করে এমনভাবে সাজান, যা হোয়াইট হাউসের ১৫ দফা প্রস্তাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। লেভিট দাবি করেন, তেহরান প্রকাশ্যে যা বলছে, ব্যক্তিগত আলোচনায় তার সঙ্গে বড় ধরনের অমিল রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ইরান তা হস্তান্তর করতে পারে।

অন্যদিকে, বাঘের গালিবাফ বলেন, চুক্তির ১০ টির মধ্যে অন্তত ৩টি ধারা লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা ‘অযৌক্তিক’ হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, প্রথম লঙ্ঘন হয়েছে লেবাননের যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে—যা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় উল্লেখ ছিল। দ্বিতীয় লঙ্ঘন হিসেবে তিনি বলেন, একটি ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। তৃতীয় লঙ্ঘন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্পের সেই বক্তব্য, যেখানে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার অস্বীকার করা হয়েছে—যা চুক্তির ষষ্ঠ ধারায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মার্কিন থিংক ট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের ইরান কর্মসূচির পরিচালাক রাজ জিমাত বলেন, মূল প্রশ্ন হলো আসন্ন আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু কতটা গুরুত্ব পাবে। তাঁর মতে, তিনটি ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে হবে—৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া, ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ উপাদান কম মাত্রায় নামিয়ে আনা এবং যত দীর্ঘ সময় সম্ভব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখা।

তিনি সতর্ক করেন, ‘এই শর্তগুলো—যার কিছু ইরান যুদ্ধের আগে প্রত্যাখ্যান করেছিল—যদি মানা হয়, তাহলে যুদ্ধ অন্তত একটি বড় অর্জন নিয়ে শেষ হতে পারে। কিন্তু যদি ইরানের কাছে এই পারমাণবিক সক্ষমতা থেকেই যায়, তাহলে সেটি হবে বড় ধরনের ব্যর্থতা।’

ইরানের আশপাশেই অবস্থান বজায় রাখবে মার্কিন বাহিনী: ট্রাম্প

‘উন্মত্ত কুকুর’ ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে যুদ্ধবিরতিতে থাকবে না ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: যুদ্ধবিরতি কার্যকরে অনিশ্চয়তা

যুদ্ধবিরতির মাঝে ইরানের আকাশে ড্রোন

যুদ্ধবিরতি নিয়ে অসন্তুষ্ট ইরানের কট্টরপন্থীরা

ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি ‘লঙ্ঘন’, ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান

যুদ্ধবিরতির পর সৌদি আরবের একমাত্র সচল তেলের পাইপলাইনে ইরানের হামলা

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি দাবি

যুদ্ধবিরতির খবরে ইসরায়েলে ক্ষোভ ও বিস্ময়

ট্রাম্পের আলটিমেটাম, মোজতবার সবুজসংকেত—যেভাবে ধ্বংসযজ্ঞ পাশ কাটিয়ে হলো যুদ্ধবিরতি