ইরানের ইসফাহান শহরের আলিখানি স্কয়ারে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোরে দুই বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ওই এলাকায় একটি ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই স্থানীয় মানুষ সেখানে জড়ো হন এবং রক্ষীদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
ইরানের বিচার বিভাগীয় সংবাদ সংস্থা মিজান ফাঁসি হওয়া দুই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেছে। তাঁরা হলেন আমিরহোসেন সাফারি ও আবুলফজল সেপাহি। গত জানুয়ারিতে ইরানে সংঘটিত বিক্ষোভে তাঁরা অংশ নিয়েছিলেন।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে স্থানীয় আলিখানি স্কয়ার এলাকায় ফাঁসির মঞ্চ তৈরির খবর ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী—গতকাল পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা জারি ছিল। স্কয়ারের কাছে জড়ো হওয়া মানুষের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।
‘আলিখানি স্কয়ার মামলা’ নামে পরিচিত এই ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত ১২ তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯ জুলাই প্রথম দফায় গলমোহাম্মদ মোহাম্মাদী ও এরফান এসফানদিয়ারি নামের দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। নতুন করে দুজনের সাজা কার্যকরের পর এই মামলায় মোট চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলো। ধাপে ধাপে অন্য আটজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
ইরান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, জানুয়ারির বিক্ষোভের সময় চারজন নিরাপত্তাকর্মী হত্যা ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে এই আসামিরা জড়িত ছিলেন। তবে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দল, বিশেষ করে, ইরানে মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার মাই সাতো এই মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেন, রুদ্ধদ্বার কক্ষে একক শুনানিতে ১২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ও আসামিদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব স্পষ্ট না করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আসামিদের অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। গোপন বিচারে ও টেলিভিশনে সম্প্রচারিত জোরপূর্বক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে এই সাজা দেওয়া হয়েছে, যার রায় কখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক আহ্বান সত্ত্বেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অব্যাহত রেখেছে ইরান।