হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে এবার ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ আনার ঘোষণা ইরানের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

যুক্তরাষ্ট্রের মাদার অব অল বোম্বসের হুমকির ফাদার অব অল বোম্বস আনার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইসলামি রিভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান ‘ফাদার অব অল বোম্বস’ ‘সকল বোমার পিতা’ নামে পরিচিত এক নতুন অস্ত্র উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গতকাল বুধবার তিনি এই কথা জানান। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ইরানের ইয়ুথ জার্নালিস্টস ক্লাব নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বক্তব্যে হোসেইন মোহেবি বলেন, ‘আমরা “ফাদার অব অল বোম্বস বা সকল বোমার পিতা” উন্মোচনের শেষ ধাপে রয়েছি। এটি শত্রুর জন্য একদম নতুন একটি চমক হতে যাচ্ছে।’ তবে এই অস্ত্র সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি।

এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার জন্য জিবিইউ-৪৩ /বি ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স এয়ার ব্লাস্ট বোম—যা ‘মাদার অব অল বোম্বস বা সকল বোমার জননী’ নামে পরিচিত—ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। প্রায় ৯ হাজার ৮০০ কেজি (২১ হাজার ৬০০ পাউন্ড) ওজনের এই জিবিইউ-৪৩ /বি মার্কিন সামরিক বাহিনীর অন্যতম সর্ববৃহৎ অ-পারমাণবিক বোমা। ২০১৭ সালের এপ্রিলে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে আফগানিস্তানে আইএস (দায়েশ) জঙ্গি গোষ্ঠীর একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কে এটি প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয়েছিল।

কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করে মোহেবি আরও জানান, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা দেড় গুণ বেড়েছে। তিনি যোগ করেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্রের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে এবং এগুলোর পাল্লা, ধ্বংসক্ষমতা ও লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।’

আইআরজিসির এই মুখপাত্র বলেন, ইরান এখন স্থায়ী ও চূড়ান্ত প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন আনছে। মোহেবি ব্যাখ্যা করেন, ‘আগে ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ছিল কেবল প্রতিরোধমূলক। আমরা বলতাম, কোনো দেশ আক্রমণ করলে আমরা তার জবাব দেব। কিন্তু এখন আমরা বলছি, কেউ আমাদের আক্রমণ করলে আমরা শুধু জবাবই দেব না, বরং পাল্টা আক্রমণও চালাব।’

তিনি স্পষ্ট জানান, যেকোনো হামলার সমপরিমাণ জবাব দেওয়া হবে এবং তাদের এই নতুন সামরিক নীতি মূলত ‘অসম যুদ্ধকৌশলে’র (asymmetric warfare) ওপর জোর দেবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কৌশল আর শুধু আক্রমণাত্মক থাকবে না, এটি হবে অপ্রতিরোধ্য ও অসম। আমরা শত্রুর ওপর এমনভাবে হামলা চালাব যাতে তারা আমাদের জবাবের তীব্রতা হাড়ে হাড়ে টের পায়।’

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল। জবাবে ইরানও ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়। পরবর্তীতে জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয় এবং দুই পক্ষ আলোচনায় বসে। তবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা এবং মুক্ত চলাচলের অধিকার নিয়ে মতবিরোধের জেরে সেই আলোচনা পরবর্তীতে ভেস্তে যায়।

কূটনীতিকদের সপরিবারে সৌদি ছাড়ার নির্দেশ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের

দাম্মামের কিং ফাহাদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ১, আহত ৮

নভেম্বরে ফের ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলা, পরিকল্পনা প্রস্তুত

পাকিস্তান, কাতার, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার ‘বদর’ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

হরমুজের বিকল্প পথে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানি যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরেছে

অক্টোবরের শুরুতে ইরানে হামলার পরিকল্পনা ছিল নেতানিয়াহুর, বানচাল করেন ট্রাম্প

হুতি হামলার পর সৌদিতে ব্যক্তিগত বিমানের চাহিদা তুঙ্গে

ইউরোপের সমর্থন পেতে কট্টর ইহুদিবাদী শরিকদের ছাঁটাই করছেন নেতানিয়াহু

হরমুজে সাবমেরিন কেব্‌ল কাটার হুমকি ইরানের, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক ব্যাংকিং

প্রকাশ্যে এল মক্কা চুক্তির মূল দলিল, কী আছে এতে