হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: বিশ্বজুড়ে ভোগান্তির দুই মাস

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

তেহরানের ফেরদৌসি স্কয়ারের কাছে একটি বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপে ইরানি পতাকা। ছবি: এএফপি

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে বিভিন্ন দেশের পোশাক খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জ্বালানি নিয়ে সংকটে পড়েছে বিশ্ব। দেশে দেশে এয়ারলাইনস ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই যুদ্ধে যেসব দেশ কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

পরমাণু আলোচনায় সমঝোতা না হওয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ইরানে হামলা শুরু হয়। আজ মঙ্গলবার এই যুদ্ধের দুই মাস হলো। এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মাত্র আট সপ্তাহে বিশ্ব অর্থনীতির একটি বড় অংশ টালমাটাল হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মূলত এই অস্থিরতা থেকে রক্ষা পেয়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে থাকে। পরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ বন্ধই রাখে ইরান। এরপর এক দফা আলোচনা হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। এদিকে হরমুজ বন্ধের জেরে ইরানের ওপর বাণিজ্য অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরও ইরান অনড় অবস্থানে থেকে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তাব খারিজ করে। এর মধ্যে আরেক দফা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তবে ইরান এরপরও আলোচনা না করার বিষয়ে অনড় থাকায় তিনি ঘোষণা দেন, তিনি আলোচনার জন্য আর প্রতিনিধি ইসলামাবাদে পাঠাবেন না। এরপর কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় ইরান। ওমান, কাতার, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

তবে গতকাল সিএনএনের খবরে বলা হয়, ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের কাছ থেকে আলোচনার প্রস্তাব পেয়েছেন। এ নিয়ে তিনি উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

এদিকে সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে ইরানও। এর অংশ হিসেবে গতকাল রাশিয়া গেছেন আরাঘচি। সেখানে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হবে বলে জানা গেছে।

যুদ্ধের এ পরিস্থিতি তুলে ধরে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে দুই মাসব্যাপী যুদ্ধের প্রভাবে ভারত ও বাংলাদেশের টেক্সটাইল কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, আয়ারল্যান্ড, পোল্যান্ড ও জার্মানিতে বিমান চলাচল সংকুচিত এবং ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডে জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলোয় যখন মন্দার সতর্কসংকেত দেওয়া হচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত অর্থনীতির চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকবে বলে মনে হচ্ছে। দেশটির প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল এবং বেকারত্বের হার কম। গত সপ্তাহে রয়্যাল ব্যাংক অব কানাডা বলেছে, এখনো মার্কিন অর্থনীতিতে আঘাত আসার শঙ্কা কম।

এই যুদ্ধের কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাত—যারা কি না বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ এবং যাদের ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি একটি তহবিল রয়েছে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য, তারা এবার অর্থসহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে। কারণ ইরানের হামলায় তাদের গ্যাসক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের জ্বালানি-বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে ভয়াবহ অর্থনৈতিক কষ্ট ভোগ করবে দরিদ্র দেশগুলো, যেখানে ভোক্তাদের পক্ষে জ্বালানির উচ্চমূল্য বহন করা সম্ভব নয় এবং সরকারগুলোর পক্ষে এ ব্যয় মেটানোর জন্য ভর্তুকি দেওয়াও প্রায় অসম্ভব। এসব দেশের অর্থনীতি সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধের কারণে বর্তমানে জ্বালানি ও সারের দাম এখন আকাশচুম্বী। এর অর্থ হলো, বছরের শেষ দিকে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়বে। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) জানিয়েছে, শিগগিরই আফ্রিকায় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা প্রকট হতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের আরেক সংস্থা ইউএনডিপি জানিয়েছে, এই সংঘাতের কারণে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের কবলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ এবং রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন বলেছেন, এশিয়ার অনেক দেশ ইতিমধ্যেই জ্বালানি সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এ সংকট আরও ভয়াবহ হবে। এই যুদ্ধের কারণে আসলে যে ক্ষতি হবে তার প্রভাব এখনো পড়তে শুরু করেনি। এখন ক্রমেই আপনারা শিল্পকারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যেতে দেখবেন।

জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং চাহিদা হ্রাসের আশঙ্কায় ভারতের ইস্পাত কারখানা এবং জাপানের গাড়ি নির্মাতারা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। চীনের খেলনা কারখানাগুলো, যারা আগে থেকেই মার্কিন শুল্কের কারণে ধুঁকছিল, তাদের পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। এসব কারখানায় চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে অনেকে।

জার্মান বিমান সংস্থা লুফথানসা এই গ্রীষ্মের জন্য নির্ধারিত ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে। ডিজিটাল শিপিং মার্কেটপ্লেস ফ্রেইটোসের মতে, জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় বিশ্বের শীর্ষ ২০টি বিমান সংস্থাই কিছু ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে। ফ্লাইটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পর্যটন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খুচরা বিক্রেতাদের আয় কমতে শুরু করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যাঁরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, তাঁরাও বিপদে রয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তারা নিজেরা যতটুকু জ্বালানি ব্যবহার করে তার চেয়ে বেশি তেল ও গ্যাস উৎপাদন করে। তবে এরপরও দেশটির বাজারে জ্বালানির দাম খানিকটা বেড়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষ খানিকটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তবে এর প্রভাব অন্য দেশের তুলনায় কম। এ প্রসঙ্গে কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জেসন বোর্ডফ বলেন, ‘বিশ্বের অন্য দেশগুলো যে কষ্ট ভোগ করছে, আমরা তা অনুভব করছি না।’

হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতে, টোল দিতে হবে রিয়ালে

‘সিরীয়দের বিরুদ্ধে অপরাধের’ অভিযোগে বাশার আল-আসাদের খালাতো ভাইয়ের বিচার শুরু

যুদ্ধ বন্ধে ইরানের নতুন প্রস্তাব—হরমুজ খোলা, পরমাণু আলোচনা পরের ধাপে

লেবাননে আরও ভূমি দখল করছে ইসরায়েল

গাজায় আশার আলো জাগাতে একসঙ্গে ৩০০ জুটির বিয়ে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি

প্রবল পরাক্রমে লেবাননে হামলার নির্দেশ নেতানিয়াহুর

ওমান সফর শেষে ফের পাকিস্তানে আসবেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুদ্ধের অবসান হয়, পাকিস্তানের কাছে এমন প্রস্তাবই দেওয়া হয়েছে: আরাঘচি

দাবি ও আপত্তির বিষয়ে পাকিস্তানকে জানিয়েছে ইরান, হবে না সরাসরি আলোচনা