হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: এএফপি

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থিত একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ড্রোনটির আঘাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঠিক বাইরে থাকা একটি জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। বিবিসির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আজ রোববার এই ড্রোন হামলার পর এর উৎস অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার দেশের পশ্চিম সীমান্ত থেকে মোট তিনটি ড্রোন ইউএইয়ের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এর মধ্যে দুটি ড্রোনকে আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস (ইন্টারসেপ্ট) করা হয়। কিন্তু তৃতীয় ড্রোনটি আবুধাবির বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সীমানার ঠিক বাইরে থাকা একটি জেনারেটরে আঘাত হানে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি এবং পারমাণবিক বিকিরণের (রেডিওলজিক্যাল সেফটি) কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি। আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, জেনারেটরের আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সমস্ত ইউনিট বর্তমানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে সচল রয়েছে।

এদিকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে এই সামরিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ)। সংস্থাটির প্রধান রাফায়েল গ্রসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘পারমাণবিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে—এমন যেকোনো ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কাছাকাছি এলাকাগুলোতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সামরিক সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

ড্রোনগুলো ঠিক কোন দেশ বা স্থান থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে, তা ইউএই সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না করলেও আঙুল উঠছে ইরানের দিকে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়, তার পর থেকেই আরব আমিরাত নিজেদের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে।

এদিকে ইরান অভিযোগ করছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা তাদের নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। যদিও ইউএই শুরু থেকেই ইরানের এই দাবি অস্বীকার করে আসছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও মাঝেমধ্যেই দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘স্টুপিড’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। যুদ্ধবিরতি নিয়ে তিনি বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতি এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’ (চরম সংকটে) রয়েছে।

কী করা উচিত—বুঝতে পারছে না ইরানের সাধারণ মানুষ

জর্ডানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইরানের, সিরিয়ার ঘাঁটিতেও হামলা

পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের বদলে থেমে থেমে সংঘাতের শঙ্কা ইরানের, রাজধানীজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা

টানা ষষ্ঠ রাতে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের পাল্টা আঘাত, ফের অচল হরমুজ

নতুন প্রতিরক্ষা চ্যাম্পিয়নের উত্থান ঘটছে উপসাগরে

বাব আল-মান্দেবে নাটকীয় অভিযান, হুতিদের অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ

তেহরানের বিলবোর্ডে ট্রাম্পের কফিন, হত্যার হুমকি

হরমুজে তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা, প্রথমবার আঘাত তেহরানে

আইএস-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইরানে দুজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

মোসাদের সঙ্গে সংযোগ উড়িয়ে দিলেন আহমাদিনেজাদ