বিশ্বজুড়ে ইহুদিবিদ্বেষ বা ‘অ্যান্টিসেমিটিজম’ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে মনে করছে ইসরায়েলের ‘ডায়াসপোরা অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড কমব্যাটিং অ্যান্টিসেমিটিজম’ মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয়টি ২০২৫ সালের ১০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে, যাদের কর্মকাণ্ড এবং প্রচারণাকে ইহুদিবিদ্বেষী ও ইসরায়েলবিরোধী প্রচারের জন্য দায়ী করা হয়েছে।
হলোকাস্ট মেমোরিয়াল ডে-এর প্রাক্কালে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রকাশ্য বক্তৃতার মাধ্যমে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ইসরায়েল এবং ইহুদিদের প্রতি বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন।
তালিকায় শীর্ষ প্রভাবশালী যাঁরা
প্রতিবেদনে কয়েকজন বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, কোটি কোটি মানুষের ওপর যাদের প্রভাব রয়েছে, তাঁরা হলেন—
গ্রেটা থুনবার্গ: জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার নিন্দা না জানিয়ে তিনি কেবল ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে তিনি ‘গণহত্যা’, ‘অবরোধ’ এবং ‘গণক্ষুধা’র মতো শব্দ ব্যবহার করে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
টাকার কার্লসন: মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব টাকার কার্লসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তাঁর অনলাইন কার্যক্রমের মাধ্যমে ইহুদিদের নিয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করছেন। বিশেষ করে মিডিয়া, ফিন্যান্স এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাঁর বক্তব্যগুলো বিদ্বেষ ছড়াতে সহায়তা করছে।
ক্যান্ডেস ওয়েন্স: মার্কিন এই ধারাভাষ্যকারও তালিকায় রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘জায়নবাদী মিডিয়া সাম্রাজ্য’ নিয়ে কথা বলা এবং ইহুদি গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তত্ত্ব প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিক ফুয়েন্তেস: উগ্র ডানপন্থী এই মার্কিন রাজনৈতিক কর্মীকে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদের প্রচারক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি হলোকাস্ট বা ইহুদি নিধনযজ্ঞকে অস্বীকার বা ছোট করে দেখান।
তালিকায় আরও রয়েছেন ড্যানিশ ইনফ্লুয়েন্সার আনাস্তাসিয়া মারিয়া লুপিস, মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ড্যান বিলজেরিয়ান, মিসরীয়-আমেরিকান কমেডিয়ান বাসেম ইউসুফ, ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান, মুসলিম ধর্ম প্রচারক ওমর সুলেমান এবং মার্কিন কন্টেন্ট ক্রিয়েটন আইয়ান ক্যারল।
এ ব্যাপারে ইসরায়েলের ডায়াসপোরা অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী আমিচাই চিকলি বলেন, ‘এই প্রতিবেদনটি গভীর প্রবণতাগুলোকে প্রতিফলিত করে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতির সমালোচনা করতে গিয়ে অনেক সময় ষড়যন্ত্রমূলক ও ইহুদিবিদ্বেষী বক্তব্যের আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। সময়মতো এই প্রবণতাগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’
মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আভি কোহেন-স্কালি জানিয়েছেন, ইসরায়েল সরকার এখন আগের চেয়ে আরও বেশি সক্রিয় এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ইহুদি-বিদ্বেষ মোকাবিলা করছে। তিনি বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর আইন ও শিক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হলোকাস্ট আমাদের মনে করিয়ে দেয় ঘৃণা যদি সময়মতো না থামানো যায়, তবে তা কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। ইসরায়েল বিশ্বজুড়ে ইহুদি সম্প্রদায়কে রক্ষায় সব ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: ওয়াইনেট নিউজ