ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও দমনপীড়নের ফলে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে সশস্ত্র কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো ইরাক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে ইরানে ঢোকার চেষ্টা করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি সম্প্রতি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) এ বিষয়ে সতর্ক করেছে। ইতিমধ্যে সীমান্ত এলাকায় কুর্দি যোদ্ধাদের সঙ্গে ইরানি বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরাক ও তুরস্ক থেকে এসব যোদ্ধাদের ইরানে পাঠানো হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য হলো চলমান বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে দেশে আরও বেশি অস্থিতিশীলতা তৈরি করা। ইরানি বাহিনী ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে এসব কুর্দি যোদ্ধাদের বাধা দিয়েছে এবং তাদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে।
তেহরান ইতিমধ্যে বাগদাদ ও আঙ্কারাকে তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন কোনো অস্ত্র বা যোদ্ধা ইরানে প্রবেশ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য জোরালো অনুরোধ জানিয়েছে।
তবে তুরস্কের সরকার সরাসরি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তারা সতর্ক করেছে, ইরানে যেকোনো ধরনের বৈদেশিক হস্তক্ষেপ আঞ্চলিক সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে। উল্লেখ্য, তুরস্ক উত্তর ইরাকে সক্রিয় কুর্দি যোদ্ধাদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিবেচনা করে।
ইরানের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, গত কয়েক দিনের সরকারি দমন-পীড়নে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ জনে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে যেকোনো সময় হস্তক্ষেপ করার হুমকি দিচ্ছেন। তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকা ও ইসরায়েলের মদতেই কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সীমান্তে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
একদিকে অভ্যন্তরীণ গণবিক্ষোভ আর অন্যদিকে সীমান্ত দিয়ে সশস্ত্র অনুপ্রবেশ—এই দ্বিমুখী চাপে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী কয়েক দশকের মধ্যে সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় ‘শুট অন সাইট’ বা দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।