যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতের ফলে ইরান তার দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ক্ষমতার প্রায় ২৩ কোটি ঘনমিটার হারিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত সরাসরি ও পরোক্ষভাবে ইরানের প্রায় ২৭ হাজার কোটি (২৭০ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণায় জানানো হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির বিপরীতে ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
সরকারি মুখপাত্র জানান, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দেশটির ১২টি সেতু ও দুটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বজনীন অবকাঠামোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফাতেমেহ মোহাজেরানি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের জীবিকার একমাত্র সম্বল মাছ ধরার নৌকা এবং স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের বুশেহর বিমানবন্দরটি মার্কিন হামলার পর ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে জানিয়ে মুখপাত্র বলেন, বিমানবন্দরটি একদম গোড়া থেকে পুনরায় নির্মাণ করতে হবে।
ওই মুখপাত্র জানান, সাধারণ মানুষের সেবার জন্য সদ্য কেনা ও সংস্কার করা একটি যাত্রীবাহী বিমান ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে ধ্বংস হয়ে গেছে, যার কেবল লেজের সামান্য অংশ অবশিষ্ট রয়েছে। এ ছাড়া সম্পূর্ণ বেসামরিক কাজের জন্য ব্যবহৃত বুশেহর আবহাওয়া কেন্দ্রটিও হামলায় প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ভেতরে অসংখ্য বোমা হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরানও বিভিন্ন আরব দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।