সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় অন্তত ১২ মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এই বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অন্যায্যভাবে অযৌক্তিক হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তেহরানের অভিযোগ, এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘাঁটি হিসেবে কাজ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসে চালানো হামলায় অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েকটি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। সংবাদমাধ্যম দুটি মার্কিন সশস্ত্রবাহিনীর একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার সময় মার্কিন সেনারা ঘাঁটির একটি ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন, তখনই সেটিতে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। হামলায় কয়েকটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এর আগে সৌদি আরব ওই ঘাঁটির আশপাশে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছিল।
এ বিষয়ে পেন্টাগন এবং মার্কিন সশস্ত্রবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে ৭ জন এবং ইরাকে ৬ জন নিহত হন। এ ছাড়া আরও ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, আহতদের ‘বেশির ভাগই’ সামান্য আঘাত পেয়েছেন এবং অধিকাংশ সেনাই ইতিমধ্যে আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, এখনো ১০ জন সেনার অবস্থা গুরুতর।
ইসরায়েলি–মার্কিন হামলায় ইরানে কতজন নিহত হয়েছে সেই বিষয়ে ইরান সরকার সর্বশেষ কোনো হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অধিকার সংগঠন গত ২৩ মার্চ জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ১৬৭ জন ইরানি নিহত হয়েছেন এবং ৬৫৮ জনের অবস্থা অজানা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানে তথ্য প্রকাশের সীমাবদ্ধতার কারণে এসব সংখ্যার স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এএফপি।