মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও লেবাননের উপর্যুপরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় গতকাল মঙ্গলবার নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে লাখ লাখ ইসরায়েলি নাগরিক। সাইরেনের শব্দে বারবার ঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রাণ বাঁচাতে বাঙ্কারে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত সময়ও অনেকে পাচ্ছেন না।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসার আগাম সতর্কতা পাওয়ার সক্ষমতা কমে গেছে। ইরান এবার বিশেষ ধরনের ‘ফ্র্যাগমেন্টেড ওয়ারহেড’যুক্ত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, যা বিস্ফোরণের সময় অসংখ্য ছোট ছোট টুকরায় বিভক্ত হয়ে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালায়। এ ছাড়া হিজবুল্লাহর হাতে আসা নতুন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র জেরুজালেমের নিকটবর্তী বেইত শেমেসের মতো সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানায় ইসরায়েলি জনগণের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
শুধু ইরান নয়, লেবানন সীমান্ত থেকেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হানা অব্যাহত রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ড্রোন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করে দেশের অনেকটা গভীরে ঢুকে পড়ছে। রাতভর অন্তত ছয়টি বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ইরান থেকে ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে আজ ভোরের আলো ফোটার আগেই লেবাননের রাজধানী বৈরুত কেঁপে উঠেছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে। একটি জনবহুল আবাসিক বহুতল ভবনে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ধারণা করা হচ্ছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো ‘টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন’ বা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হামলার পর ভবনটির বাসিন্দাদের রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, আক্রান্ত এলাকাটি হিজবুল্লাহর আস্তানা হিসেবে পরিচিত নয়, বরং এটি একটি সাধারণ আবাসিক এলাকা।
সংঘাতের তীব্রতা এতটা বেড়েছে যে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এখন কোনো সুনির্দিষ্ট ফ্রন্ট লাইন নেই, কোনো জায়গাই আর নিরাপদ নয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া কান্না আর নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষের হাহাকারে সীমান্ত এলাকাগুলো বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছে।