হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

ইসরায়েলে দাবানলে পুড়ল সংরক্ষিত বনাঞ্চল, জলে গেল কোটি টাকার পুনরুদ্ধার প্রকল্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ইসরায়েলে দাবানলে পুড়ছে একটি এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে এক ভয়াবহ দাবানল শুরু হয়েছে। এই দাবানলে সংরক্ষিত অনেক বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই দাবানলে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে চালু করা বন সংরক্ষণ প্রকল্পের পুরোটাই ভেস্তে গেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে শেফেলাহ অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানলে আইনোত-গিবটন নেচার রিজার্ভ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে। দীর্ঘ এক দশক ধরে পরিবেশগত পুনরুদ্ধার প্রকল্পের পর মাত্র দুই বছর আগে এটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছিল।

এর আগে, গত বুধবার বিকেলে শেফেলাহ অঞ্চলে ইসরায়েলের জাতীয় মহাসড়ক-৬-এর কাছে অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়। তীব্র গরম ও প্রবল বাতাসের কারণে সৃষ্ট একাধিক অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে এটি ছিল একটি, যারা ধারাবাহিকতায় এই দাবানলের সৃষ্টি হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ২১৫ ডুনাম বা ৫৩ একরের বেশি প্রাকৃতিক বন পুড়ে গেছে। এতে বহু বছরের পুনরুদ্ধারের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে। সংরক্ষিত এলাকা থেকে আগুন দ্রুত কাছাকাছি পেটাচ্যা, পেদায়া এবং ইয়াতজিৎজ মোশাভিমের কৃষি এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে হাইওয়ে-৬ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে হয় এবং বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও আগুনে ব্যাপক পরিবেশগত ও কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। দক্ষিণের উপকূলীয় সমভূমিতে অবস্থিত আইনোত-গিবটন অঞ্চলটি বিরল জলাভূমি এবং জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত ছিল। এটিকে এই অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত স্থান হিসেবে গণ্য করা হতো।

এই এলাকা পুনরুদ্ধারের জন্য স্থানীয় গেজের আঞ্চলিক পরিষদ, ইসরায়েল নেচার অ্যান্ড পার্কস অথরিটি এবং ইসরায়েল ল্যান্ড অথরিটির ওপেন স্পেস প্রিজারভেশন ফান্ড প্রায় ৩ মিলিয়ন ইসরায়েলি শেকেল ব্যয় করেছিল। সংরক্ষিত এলাকাটি বিভিন্ন প্রজাতির আশ্রয়স্থল এবং জনসাধারণের জন্য একটি শান্ত সবুজ ভ্রমণস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বন্ধ থাকবে। পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিরল প্রজাতি ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এবং একটি বড় জলাভূমি তৈরি করা হয়েছিল, যা আগুনে ধ্বংস হয়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষ দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা করছে। এর মধ্যে রয়েছে আক্রমণাত্মক প্রজাতির ফিরে আসা এবং পাখির বাসা বাঁধার চক্রে ব্যাঘাত ঘটা। হাঁটা পথ এবং পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের ক্ষতির কারণে নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আইনোত-গিবটনের আগুন ছাড়াও বাইত মেশেশ ও জেরুজালেমের পাহাড়ের কাছাকাছিও আগুনের খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শতাধিক ফায়ার সার্ভিস টিম এবং বিমান ও হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। রাতের বেলা আকাশপথে আগুন নেভানোর কাজ বন্ধ থাকায় বিমানবাহিনীর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

আক্রান্ত এলাকায় ট্রেন চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে মেশেশ জিয়ন, বাইত মেয়ার ও বার্মা রোড এলাকার মতো হটস্পটগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এখনো কাজ করছেন। আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য ফায়ার ব্রেক তৈরি করা হয়েছে এবং দলগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।

জরুরি কর্মীরা বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়েছেন এবং আগুনে আটকে পড়া প্রাণীদের উদ্ধার করেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের সময় পোষা প্রাণী ও খামারের পশুদের দ্রুততম সময়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ইরানে রাজনৈতিক সংকট: বিক্ষোভ জোরালো হচ্ছে, বাড়ছে মৃত্যু

ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াল

ইসরায়েল ও মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার হুমকি ইরানের

ইরানের বিক্ষোভের মুখ হতে চাইছেন—পারবেন কি শাহপুত্র রেজা পাহলভি

ফিলিস্তিনিদের সোমালিল্যান্ডে পাঠানোর পরিকল্পনা ইসরায়েলের, শক্ত প্রমাণ আছে: সোমালিয়ার মন্ত্রী

বিক্ষোভ দমনে হিমশিম ইরান, নিরাপত্তা বাহিনীর শতাধিক সদস্য নিহতের দাবি

বিক্ষোভ মোকাবিলায় ইরান কেন আগের মতো কঠোর হচ্ছে না

ইরানে আন্দোলন: নিহত বেড়ে ১১৬, যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ‘লক্ষ্যবস্তু হবে ইসরায়েল’

ইরানে মার্কিন হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা, সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইসরায়েল

সিরিয়ার আলেপ্পো ছাড়ল এসডিএফ, ১৪ বছরের কুর্দি শাসনের অবসান