যুক্তরাজ্যে বসবাসরত শতাধিক ইরানি নাগরিক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলায় অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের যুদ্ধ ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে শক্তিশালী করার বদলে বরং বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে আরও মজবুত করতে পারে।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক রাজনৈতিক বন্দী নাজানিন জাঘারি-র্যাটক্লিফ। ইরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে ছয় বছর বন্দী ছিলেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের হাতে পৌঁছানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে—তাঁরা ইরানে গণতন্ত্র দেখতে চান। কিন্তু বর্তমান সংঘাত পরিস্থিতি উল্টো কর্তৃত্ববাদী শক্তিগুলোকেই আরও শক্তিশালী করতে পারে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অবসান আমরা যতটা চাই, অন্য কেউ ততটা চাইবে না। কিন্তু এভাবে দেশটিতে হামলা হলে বিপরীত ফল হবে। এতে শাসকগোষ্ঠী আরও শক্ত অবস্থান নেবে এবং পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে—এই পুরোনো প্রচারণা নতুন জীবন পাবে।’
চিঠির ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নিহত হওয়া তাঁকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার বদলে শহীদের মর্যাদা দিয়ে দিয়েছে। এতে বলা হয়, ‘ইরানিরা তাকে তার অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি দেখতে চেয়েছিল, শহীদের মতো মৃত্যু নয়।’
চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন আরাস আমিরি ও নাসরিন পারভেজের মতো আরও কয়েকজন সাবেক বন্দী। তাঁরা যুক্তরাজ্য সরকারকে ইরানের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকে সহায়তা করার বিকল্প উপায়ও প্রস্তাব করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দেশটির ভেতরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা দূর করতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া।
চিঠিতে সতর্ক করা হয়—যুক্তরাজ্য যেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধনীতির সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে। তাঁদের মতে, গণতন্ত্রপন্থী নীতি গ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক বন্দিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ইরানের জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করাই হবে যুক্তরাজ্যের জন্য বেশি কার্যকর পদক্ষেপ।