যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে আবারও হামলা চালিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার এই হামলা হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান শান্তিচুক্তিতে সম্মত না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘কাজ শেষ’ করবে। সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসে অন্তত তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এই নতুন অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সমঝোতার দাবি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে—উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস
বার্তা সংস্থা এএফপিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, হরমুজ প্রণালির আশপাশে হুমকি তৈরি করা ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। একই সঙ্গে বন্দর আব্বাসে একটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে, যেখান থেকে আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল।
এর আগে গত সোমবার রাতের হামলার পর গতকাল বুধবার ইরান জানায়, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে দেশটির সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নারী-শিশুসহ নিহত ৩১, বিস্তৃত হচ্ছে স্থল অভিযান
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল। তবে সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা বক্তব্য সেই প্রচেষ্টাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে।
বুধবার হোয়াইট হাউসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও এখনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা সন্তুষ্ট নই, তবে শেষ পর্যন্ত হব। অন্যথায় আমাদের কাজ শেষ করতে হবে।’
হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইস্যু আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত সীমিত করে দিয়েছে তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে মার্কিন হামলা
ওমান সম্পর্কেও কড়া মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ইরান ও ওমানের যৌথভাবে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এটি আন্তর্জাতিক জলসীমা।’
তবে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করেনি, ট্রাম্পের বক্তব্যে কোনো ভুল ছিল কি না। সংঘাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে ওমান।
এদিকে লেবাননেও উত্তেজনা বেড়েছে। ইসরায়েল দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরের বাসিন্দাদের নতুন করে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। জাহরানি নদীর দক্ষিণাঞ্চলকে ‘যুদ্ধাঞ্চল’ ঘোষণা করে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেল আবিব।