সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কার্যক্রম আবারও শুরু করেছে। মঙ্গলবারই (২২ সেপ্টেম্বর) দেশটির লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র জানিয়েছে।
ড্রোন হামলার কারণে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এর ফলে ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানিও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
মঙ্গলবার পাইপলাইনে সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। এর প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের ভবিষ্যৎ সরবরাহের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি কমে ৮ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সৌদি আরব বিকল্প রুট হিসেবে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন ব্যবহার করছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশটি এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ইয়ানবু বন্দরের দিকে পাঠাতে সক্ষম। এই পরিমাণটি বিশ্বব্যাপী দৈনিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান।
তবে পুনরায় চালুর পর পাইপলাইনটিতে তুলনামূলক কম গতিতে তেল পাম্প করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুটি সূত্র। সৌদি রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি আরামকো এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
একটি সূত্র জানিয়েছে, আরামকো পাইপলাইনের সরবরাহের হার আবার দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার চেষ্টা করছে। তবে একটি নিরাপত্তা সূত্রের মতে, পাইপলাইনটির পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র আরও জানিয়েছে, পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত আরামকোর বিভিন্ন শোধনাগারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ আবার শুরু হবে। মঙ্গলবার ইয়ানবু বন্দর থেকে একটি তেলবাহী জাহাজে অপরিশোধিত তেল তোলার কথা রয়েছে। জাহাজটির গন্তব্য চীন।
এদিকে, সৌদি আরবের তেল রপ্তানি পুনরায় শুরু হওয়ার প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবসায়ীরাও তৎপরতা শুরু করেছেন। দুটি বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, ব্যবসায়ীরা তেল পরিবহনের জন্য ট্যাংকারগুলো মিসরের ভূমধ্যসাগরীয় বন্দর পোর্ট সাইদ ও সিদি কেরিরের দিকে সরিয়ে নিচ্ছেন। সেখানে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমে সৌদি তেল পরিবহনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহনের বিঘ্নের মধ্যে সৌদি আরবের বিকল্প এই পাইপলাইন চালু হওয়াকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।