ইরান হরমুজ প্রণালি হয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত টোলে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ কিছু দেশকে ছাড় দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়াও রয়েছে। আজ শুক্রবার মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এ তথ্য জানান। রুশ সংবাদমাধ্যম রিয়া নভোস্তির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।
রিয়া নভোস্তিকে কাজেম জালালি বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য—যেমন রাশিয়া, আমরা এই ছাড় প্রয়োগের চেষ্টা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে কী হবে, তা আমি জানি না। তবে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বর্তমানে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই ব্যতিক্রম চালুর চেষ্টা করছে।’
৮ এপ্রিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করছে তেহরান। জাহাজগুলোকে আগেভাগেই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে টোল পরিশোধের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ পরিশোধ করতে বলা হয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনা ইউয়ানে।
এর আগে, গত ১৯ মার্চ ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানায়, কৌশলগত এই সমুদ্রপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য ফি বাধ্যতামূলক করার আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা বেড়েছে।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানের অনুরোধে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। তিনি জানান, তেহরান একটি ‘সমন্বিত প্রস্তাব’ উপস্থাপন না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে। এর আগে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চীনও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য চাপ দিয়েছিল। বিশেষ করে, ১৪ মে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য চীন সফরের আগে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার বার্তা বেইজিং থেকে ওয়াশিংটনে পাঠানো হয়। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় জ্বালানি রুট, বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালি, বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।