হোম > বিশ্ব > মধ্যপ্রাচ্য

লাগবে না হরমুজ—পাইপলাইন ও রেলে আসবে উপসাগরীয় তেল!

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিতে চলমান অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মার্চ পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হলেও বর্তমানে ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র, সমুদ্র মাইন এবং বাড়তি বিমা খরচের কারণে জাহাজ চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে স্থলভিত্তিক অবকাঠামোর দিকে ঝুঁকছে।

রোববার (১৭ মে) মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ’দ্য ন্যাশনাল’ জানিয়েছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘অ্যাডনক’ ফুজাইরাহ পর্যন্ত বিদ্যমান পাইপলাইন সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে দেশটির তেল রপ্তানি সক্ষমতা দৈনিক ৩০ থেকে ৩৪ লাখ ব্যারেলে পৌঁছাবে। একইভাবে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত পাইপলাইনও বৈশ্বিক তেলবাজারকে বড় সংকট থেকে রক্ষা করছে। কুয়েত, কাতার, বাহরাইন ও ইরাকও বিকল্প রুট তৈরির উপায় খুঁজছে।

তেল পরিবহনের বাইরে উপসাগরীয় অর্থনীতির শিল্পায়নও দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রনির্ভর। ১৯৭০-এর দশক থেকে তেল শোধনাগার, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, পেট্রোকেমিক্যাল, সার ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প গড়ে উঠেছে মূলত সমুদ্রপথে কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রপ্তানির ওপর ভিত্তি করে। দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরসহ উপসাগরের বড় বড় বন্দরগুলো শুধু স্থানীয় বাজার নয়, ইরাক, পূর্ব আফ্রিকা ও যুদ্ধের আগে ইরানেও পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তবে বর্তমান সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভারত মহাসাগরমুখী বন্দর এবং রেলপথভিত্তিক প্রকল্পগুলো আঞ্চলিক অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়তা করছে। যুদ্ধের আগে শারজাহর খোরফাক্কান বন্দরে সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার কনটেইনার পরিচালিত হলেও এখন তা বেড়ে ৫০ হাজারে পৌঁছেছে। পাইপলাইন, সড়ক ও রেলপথের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে উপসাগরীয় অঞ্চল ধীরে ধীরে স্থলভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ইরানও দীর্ঘদিন ধরে হরমুজের বাইরে জাস্ক বন্দরে পাইপলাইন গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা কার্যকর বিকল্প হয়ে উঠতে পারেনি। বর্তমানে তেহরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের প্রস্তাব দিচ্ছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যত বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করবে, অন্য দেশগুলো তত বেশি বিকল্প পথ ব্যবহার করবে।

তবে সব পণ্য স্থলপথে পরিবহন সম্ভব নয়। এলএনজি এখনো পুরোপুরি জাহাজনির্ভর। এ ছাড়া সার, অ্যালুমিনিয়াম বা পরিশোধিত জ্বালানির মতো ভারী পণ্য স্থলপথে পরিবহন ব্যয়বহুল। তবুও বর্তমান সংকট দেখিয়ে দিচ্ছে, উপসাগরীয় দেশগুলো ভবিষ্যতে সমুদ্রনির্ভরতার ঝুঁকি কমিয়ে বিকল্প স্থলপথভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে আরও বেশি গুরুত্ব দেবে।

আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে ড্রোন হামলা

সৌদি আরবে জিলহজের চাঁদ দেখা গেছে, ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের রূপরেখা শিগগির প্রকাশ করবে ইরান

জেরুজালেমের কাছে বিশাল বিস্ফোরণ, ইসরায়েল বলছে ‘পূর্বপরিকল্পিত পরীক্ষা’

ইরানের দ্বীপ দখলে আরব আমিরাতকে উসকাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা পুনরায় সচল করতে তেহরানে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘নাকবা’ থেকে আজও মুক্তি মেলেনি ফিলিস্তিনিদের

ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের অনাক্রমণ চুক্তি চায় সৌদি, থাকতে পারে ইসরায়েলও

হরমুজের কাছে ডুবে গেছে ভারতীয় জাহাজ ‘হাজি আলী’

অস্ত্রবাহী একটি জাহাজ জব্দ করেছে ইরান