দক্ষিণ লেবাননে একজন ইসরায়েলি সেনার হাতুড়ি দিয়ে যিশুখ্রিষ্টের মূর্তি ভাঙচুর করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। এক্স প্ল্যাটফর্মে ছবিটি ইতিমধ্যে ৫০ লাখেরও বেশি মানুষ দেখেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আজ সোমবার এক বিবৃতিতে ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তারা জানায়, প্রাথমিক পর্যালোচনার পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ছবিটি দক্ষিণ লেবাননে দায়িত্বরত একজন ইসরায়েলি সৈন্যের।
উল্লেখ্য, গত মাস থেকে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান ও বিমান হামলা শুরু করেছে। সামরিক বাহিনী আরও জানিয়েছে যে, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ‘যথাযথ ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টের ফিলিস্তিনি সদস্য আয়মান ওদেহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপহাস করে লিখেছেন, ‘আমরা এখন পুলিশ মুখপাত্রের দাবির অপেক্ষায় আছি যে “সৈন্যটি যিশুর দ্বারা হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল”।’
অন্য একজন সদস্য আহমেদ তিবি ফেসবুকে লিখেছেন, যারা গাজায় মসজিদ ও গির্জা উড়িয়ে দেয় এবং জেরুজালেমে খ্রিষ্টান যাজকদের গায়ে থুতু ফেলে, তারা যিশুর মূর্তি ধ্বংস করে তা প্রকাশ করতে ভয় পায় না। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে একে ‘বর্ণবাদী শিক্ষা’ বলে অভিহিত করেন।
লেবাননের ডেবিল গ্রামের উপকণ্ঠে অবস্থিত এই মূর্তি অবমাননার ঘটনায় অধিকার কর্মী, শিক্ষাবিদ এবং লেখকেরা কড়া সমালোচনা করেছেন। নেটিজেনরা ইসরায়েলি সৈন্য ও জোরপূর্বক বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা ধর্মীয় স্থাপনা ও প্রতীকের ওপর হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতাকে দায়ী করেছেন। আহমেদ তিবি বলেন, ‘পাশ্চাত্য বিশ্ব যখন নীরব থাকে, তখন বর্ণবাদীরা আরও দুঃসাহস পায়।’
ফিলিস্তিনের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীরা অন্তত ৪৫টি মসজিদে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া রিলিজিয়াস ফ্রিডম ডেটা সেন্টার (আরএফডিসি) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে অন্তত ২০১টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশই ঘটেছে জেরুজালেমের পুরাতন শহরে।