হোম > বিশ্ব > লাতিন আমেরিকা

মেক্সিকোতে রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই সিআইএ এজেন্ট নিহত, কূটনৈতিক উত্তেজনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

অনুমতি ছাড়া দেশের মাটিতে মার্কিন গোয়েন্দা তৎপরতা মেনে নেবে না মেক্সিকো। ছবি: এএফপি

মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া রাজ্যে এক রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র দুইজন কথিত এজেন্ট নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাটি মেক্সিকোর মাটিতে মার্কিন গোয়েন্দাদের গতিবিধি এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাম এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

গত রোববার ভোরে চিহুয়াহুয়া রাজ্যে একটি গাড়ি রাস্তা থেকে ছিটকে খাদে পড়ে গেলে এই প্রাণহানি ঘটে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনাল্ড জনসন তাঁদের ‘দূতাবাসের কর্মী’ হিসেবে অভিহিত করলেও একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে তাঁরা সিআইএ-র সদস্য ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট শিনবাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস এই ঘটনার তদন্ত করবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘মেক্সিকোর আইন অনুযায়ী কোনো বিদেশি এজেন্টকে এ দেশে কাজ করতে হলে ফেডারেল অনুমোদন প্রয়োজন। সংবিধান বা জাতীয় নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মেক্সিকোর ড্রাগ কার্টেল (মাদকচক্র) নির্মূলে একতরফা সামরিক অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি কার্টেল সদস্যদের ‘বেআইনি অস্ত্রধারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে মেক্সিকোর জলসীমায় ড্রাগ পাচারকারী নৌকায় হামলা চালিয়েছেন, যাতে অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছেন।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শিনবাম ট্রাম্পের এই মনোভাবকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ‘তথ্য আদান-প্রদান বা যৌথ গোয়েন্দা কার্যক্রম চলতে পারে, কিন্তু মেক্সিকোর মাটিতে মার্কিন বাহিনীর কোনো একক অভিযান বা সামরিক পদক্ষেপ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’

দুর্ঘটনার সময় এজেন্টরা ঠিক কী করছিলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি অনুযায়ী, তাঁরা একটি মাদকবিরোধী অভিযানে যুক্ত ছিলেন। তবে চিহুয়াহুয়া রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল সিজার জাউরেগুই মোরেনো বিদেশি হস্তক্ষেপের দাবি অস্বীকার করে বলেছেন, মার্কিন কর্মীরা সেখানে ড্রোন চালনা শেখানোর মতো কাজে যুক্ত ছিলেন এবং দুর্ঘটনার সময় তাঁরা বিমানবন্দরে যাচ্ছিলেন।

প্রেসিডেন্ট শিনবাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে মার্কিন এজেন্টরা অনুমতি ছাড়াই মেক্সিকোর মাটিতে কোনো অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন, তবে কঠোর কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হবে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আটকাদেশের ঘটনার পর মেক্সিকো নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এখন আরও বেশি সতর্ক।

এই দুর্ঘটনাটি কেবল দুই এজেন্টের মৃত্যু নয়, বরং ওয়াশিংটন ও মেক্সিকো সিটির মধ্যে বিদ্যমান আস্থার সংকট এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে মেক্সিকোর অনড় অবস্থানের চিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছে।

১০ দিনেও শেষ হয়নি ভোট গণনা, পেরুর নির্বাচন পরিচালনা প্রধানের পদত্যাগ

ব্যবহৃত পোশাকের ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে যে দেশের মরুভূমি

‘গাধার মাংস খেলেই জাতি সুস্থ থাকবে’, আর্জেন্টিনার সিনেটরের মন্তব্যে তোলপাড়

ব্রাজিলে সহস্রাধিক মার্কিন অস্ত্র ও দেড় টন মাদক জব্দ

কিউবা যাচ্ছে রাশিয়ার দ্বিতীয় তেলবাহী জাহাজ, দখলের আশা কি ছেড়ে দিলেন ট্রাম্প

দেলসি রদ্রিগেজের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করল যুক্তরাষ্ট্র

হাসি কেড়ে নিচ্ছে সরকারি ফরমান: বলিভিয়ায় জীবিকা রক্ষায় রাজপথে শত শত ‘জোকার’

কিউবায় আরোপিত অবরোধ নিয়ে উদাসীন ট্রাম্প, জ্বালানি নিয়ে যাচ্ছে রুশ ট্যাংকার

কলম্বিয়ায় সামরিক উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত, ৬৬ জনের মৃত্যু

কিউবায় ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির কার্যালয়ে নজিরবিহীন ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ