ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কার্গো জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যে এক জনসমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হলে যুক্তরাষ্ট্র এক ‘দস্যু রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত আশারাক আল–আওসাতের খবরে বলা হয়েছে, এর আগে ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত সব ধরনের কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এ ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
লুলা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি বৃহৎ দেশ, যে দেশকে আমি দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখেছি বলে বিশ্বাস করি, তারা এখন নিজেরাই জলদস্যু হয়ে উঠতে পারে না।’
অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ সঠিক। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ ও সুরক্ষিত চলাচল নিশ্চিত করে যে পক্ষ, তার এই সেবার জন্য পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত। ইরান সবসময়ই এই প্রণালীর অভিভাবক ছিল এবং চিরকাল থাকবে। অবশ্যই ২০ শতাংশ অনেক বেশি। আমরা ন্যায্য থাকব।’
গতকাল সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আরও জানান, তিনি হরমুজ প্রণালীর ইরানি বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ কার্যকর করবেন এবং ওই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত সব ধরনের কার্গোর ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন। তাঁর দাবি, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র যে ব্যয় বহন করছে, সেই ব্যয় মেটাতেই এ অর্থ ব্যবহার করা হবে।
ট্রাম্প লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালী খোলা আছে এবং ইরান থাকুক বা না থাকুক, এটি খোলাই থাকবে। আমরা ইরানিয়ান ব্লকেড পুনর্বহাল করছি, যার এই নাম কারণ এটি শুধু ইরানের জাহাজ অথবা ইরানের গ্রাহকদের প্রবেশ বা প্রস্থান ঠেকায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের এই অত্যন্ত অস্থিতিশীল অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যে কোনো এবং সব ধরনের ব্যয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ২০ শতাংশ হারে সব কার্গো জাহাজ থেকে অর্থ ফেরত পাবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এর আগে ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও ট্রাম্প একই পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা প্রণালীটি রক্ষা করব এবং সম্ভবত আমরা এটি পরিচালনাও করব। আমরা এই প্রণালীর অভিভাবক হয়ে উঠব। হয়তো আমরা নিজেদের হরমুজ প্রণালির অভিভাবক বলব। আর এর জন্য আমাদের পারিশ্রমিক পাওয়া উচিত।’
বিশ্বের তেল সরবরাহের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোর একটি হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ বর্তমানে চলমান সংঘাতের অন্যতম প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। প্রণালীটিতে ইরানের কার্যকর অবরোধ জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র করেছে।
এদিকে সোমবার এক বিবৃতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস জানায়, হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌপরিবহন পুনরুদ্ধারের একমাত্র উপায় হলো ওই জলপথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। বিবৃতিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়, ‘এই হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস খাতে আরও বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।’