মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অস্থিরতার মধ্যেও রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত ছাড় বা ‘ওয়েভার’ থাকুক কিংবা না থাকুক, ভারত রুশ তেল কেনা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পেট্রোলিয়াম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা।
গত সোমবার (১৮ মে) সাংবাদিকদের সুজাতা বলেন, ‘আমরা ওয়েভারের আগেও রাশিয়া থেকে তেল কিনেছি, ওয়েভারের সময়ও কিনেছি, এখনো কিনছি। এটি পুরোপুরি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং মার্কিন ছাড় থাকুক বা না থাকুক, ভারতের জ্বালানি আমদানিতে তেমন প্রভাব পড়বে না।
সমুদ্রপথে রাশিয়ার সরবরাহ হওয়া অপরিশোধিত তেল ভারতে বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা-ছাড় দিয়েছিল, তার মেয়াদ শেষ হয় গত ১৬ মে। মার্চে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ প্রথম এই ছাড় দেয় এবং পরে দুবার মেয়াদ বাড়ানো হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ভারত আরও সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানালেও যুক্তরাষ্ট্র তাতে সাড়া দেয়নি।
তবে নিষেধাজ্ঞা-ছাড় শেষ হওয়ার আগেই ভারত রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি বাড়িয়ে নেয়। জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে ভারতের দৈনিক রুশ তেল আমদানি রেকর্ড ২৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। পুরো মে মাসে এই পরিমাণ গড়ে ১৯ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে গেছে। মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারতের আমদানি ৬১ শতাংশ কমে দৈনিক ১১ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। একই সময়ে রাশিয়া থেকে সরবরাহ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়ায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। ফলে ভারতীয় শোধনাগারগুলো হারানো ইরানি ও উপসাগরীয় তেলের ঘাটতি পূরণে রুশ তেলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগে ছাড়মূল্যে বিক্রি হওয়া রুশ তেল এখন প্রিমিয়াম দামে বিক্রি হচ্ছে, যা মস্কোর জন্য বড় লাভের সুযোগ তৈরি করেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে রাশিয়া বড় ছাড়ে তেল বিক্রি শুরু করে। রুশ তেলের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা না থাকায় ভারতও নিষেধাজ্ঞামুক্ত জাহাজ, বিমা ও অর্থ প্রদানের পথ ব্যবহার করে আমদানি অব্যাহত রেখেছে।