ভারতের হিমাচল প্রদেশের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা মানালি। কুলু জেলার এই পর্যটন কেন্দ্রে বছরের এ সময়টায় পর্যটকদের বেশ ভিড় দেখা যায়। এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, তুষারপাতের কারণে পর্যটকে পূর্ণ মানালির অবস্থা এখন বিপর্যস্ত। সড়কগুলোতে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পর্যটকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভয়াবহ যানজটে আটকে আছেন। কোঠি থেকে মানালি পর্যন্ত একটি অংশে যানজট প্রায় ৮ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়েছে।
দীর্ঘ সাপ্তাহিক ছুটি আর তুষারপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রায় তিন মাসের শুষ্ক আবহাওয়ার পর এটিই মৌসুমের প্রথম তুষারপাত। মানালির হোটেলগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পর্যটকরা এখন কুলুর দিকে চলে যাচ্ছেন।
এনডিটিভি থেকে জানা যায়, তুষারপাতে রাজ্যজুড়ে ৬৮৫টি সড়কে যানচলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উপজাতি অধ্যুষিত লাহাউল ও স্পিতি জেলায়। এ ছাড়া চাম্বায় ১৩২ টি, মান্ডিতে ১২৬ টি, কুলুতে ৭৯ টি, সিরমৌরে ২৯ টি, কিন্নৌরে ২০ টি, কাংড়ায় চারটি, উনায় দুটি এবং সোলানে একটি সড়ক বন্ধ রয়েছে।
সিমলা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ঢাল্লির পর যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কারণ হিন্দুস্তান–তিব্বত সড়কের একটি বড় অংশ ঘন তুষারে ঢেকে গেছে।
গতকাল শনিবার একজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, ভারী তুষারপাতের কারণে পুরো কিন্নৌর জেলা এবং সিমলা জেলার নারকান্দা, জুব্বাল, কোটখাই, কুমারসাইন, খরাপাথর, রোহরু ও চোপালের মতো শহরগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই যানজট ২৪ ঘণ্টা পরেও কাটেনি। হাজার হাজার পর্যটক তাদের যানবাহনে আটকা পড়েছেন এবং যান চলাচল সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যায়, যানবাহনগুলো তুষারের পুরু চাদরে ঢাকা পড়ে আছে।
সরকারি কর্মকর্তারা আরও জানান, ‘পশ্চিমী ঝঞ্ঝা’ (পশ্চিম দিক থেকে আসা মেঘ-বৃষ্টি ও শীতল বাতাস)-এর কারণে ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হিমাচল প্রদেশ সরকার রাজ্যজুড়ে একটি সতর্কবার্তা জারি করেছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয়-কাস্পিয়ান সাগর অঞ্চল থেকে উদ্ভূত পশ্চিমী ঝঞ্ঝা এবং আফগানিস্তান-পাকিস্তান অঞ্চল হয়ে আসা একটি ঝড় আগামী রোববার পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে। এর প্রভাবে আরও বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া আগামীকালের জন্য কাংড়া, মান্ডি, সোলান, উনা, বিলাসপুর, হামিরপুর ও সিরমৌর জেলায় ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কায় হলুদ সতর্কতা (ইয়েলো ওয়ার্নিং) জারি করা হয়েছে।