হোম > বিশ্ব > ভারত

ভারতের ইন্দোরে দূষিত পানি পানে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০০

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

প্রতীকী ছবি। ছবি: ইপিএ

ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে টানা আটবার স্বীকৃতি পেয়েছে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর। তবে এবার এই পরিচ্ছন্ন শহরেই পানীয় জলের ভয়াবহ দূষণে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের ভাগীরথপুরা এলাকায় গত কয়েক দিনে ব্যাপক ডায়রিয়া ও বমির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ থেকেই এমন মৃত্যুর মিছিল শুরু। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিরোধী দল কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১৪ পর্যন্ত হতে পারে, যার মধ্যে ছয় মাস বয়সী এক শিশুও রয়েছে।

তবে আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ইন্দোরের মেয়র পুষ্যমিত্র ভার্গব ১০ জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভাগীরথপুরা এলাকায় একটি পুলিশ আউটপোস্টের শৌচাগার সরাসরি প্রধান পানির পাইপলাইনের ওপর নির্মাণ করা হয়েছিল। এই পানির পাইপলাইনে একটি ছিদ্র থাকায় শৌচাগারের বর্জ্য সরাসরি খাবার পানির সঙ্গে মিশে যায়।

ইন্দোরের প্রধান চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (সিএমএইচও) ড. মাধব প্রসাদ হাসানি জানিয়েছেন, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পানির পাইপলাইনে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় কাউন্সিলর কমল বাঘেলা জানান, গত ২৫ ডিসেম্বর থেকেই বাসিন্দারা পানিতে দুর্গন্ধ ও হলুদ রঙের বিষয়ে অভিযোগ করছিলেন। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ দিনে ভাগীরথপুরা এলাকার ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২০১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৩২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রায় ১ হাজার ৭০০ বাড়িতে গিয়ে ৮ হাজার ৫৭১ জন বাসিন্দার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। এর মধ্যে ৩৩৮ জনের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ পাওয়া গেছে। আক্রান্ত এলাকায় ক্লোরিন ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের পানি ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এই ঘটনাকে ‘জরুরি অবস্থার’ সঙ্গে তুলনা করেছেন। গাফিলতির অভিযোগে ইন্দোর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের জোনাল অফিসার শালিগ্রাম শিতোলে এবং সহকারী প্রকৌশলী যোগেশ জোশীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া চাকরি হারিয়েছেন উপপ্রকৌশলী শুভম শ্রীবাস্তব।

মুখ্যমন্ত্রী নিহতদের পরিবারকে দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা এবং অসুস্থদের বিনা মূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দিয়েছেন। এদিকে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) এই ঘটনার পর রাজ্য সরকারের কাছে দুই সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছে।

বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয় এই ঘটনাকে প্রশাসনের ‘ভুল’ হিসেবে স্বীকার করেছেন। তবে বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী এই পরিস্থিতিকে ‘সুশাসনের অভাব’ আখ্যা দিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, ইন্দোরে পানির বদলে ‘বিষ’ বিতরণ করা হয়েছে।

মণিপুর রাজ্যে সশস্ত্র হামলায় কুকিদের ৩ গির্জা নেতাকে হত্যা, উত্তেজনা

তিব্বত যেতে হিমালয়ের গিরিপথ খুলবে ভারত, নেপালের সঙ্গে উত্তেজনা

ব্যক্তিগত জ্যোতিষীকে সহযোগী নিয়োগ, সমালোচনার মুখে বাতিল করলেন বিজয়

আস্থা ভোটে অভাবনীয় জয়, নিষ্কণ্টক হলো থালাপতি বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রিত্ব

পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ বন্ধ করা যাবে না: আরএসএস

থালাপতি বিজয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কাশ্মীরেও মদের দোকান বন্ধের দাবি

তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততায় উদ্বিগ্ন ভারত: আনন্দবাজারের প্রতিবেদন

সংখ্যালঘু ‘নিপীড়নের’ অভিযোগ খণ্ডনে বিশ্ব সফরে বের হচ্ছে আরএসএস

পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান, ভাঙচুর

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ইতিবাচক দিকে গড়ালেও সীমান্ত নিরাপত্তায় অগ্রাধিকার ভারতের