বিয়ের মঞ্চে বর-কনে। চলছে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান। অতিথিরা বিয়ের আয়োজন দেখছেন মনোযোগ দিয়ে। আনন্দের সময়টুকু ধারণ হচ্ছিল ভিডিওগ্রাফারের ক্যামেরায়। এমন সময় কনেকে গুলি করে পালালেন এক যুবক। আনন্দঘন মুহূর্ত পরিণত হলো এক দুঃস্বপ্নে। গত মঙ্গলবার রাতে এমনই ঘটনা ঘটেছে ভারতের বিহার রাজ্যের বক্সার জেলায়।
এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিয়ের কনে ১৮ বছর বয়সী আরতি কুমারীকে যিনি গুলি করেছেন তিনি তাঁদেরই প্রতিবেশী। অভিযোগ উঠেছে, দীনবন্ধু নামে ওই যুবক আরতির প্রেমিক। আবার অনেকে বলছেন, দীনবন্ধু দীর্ঘসময় ধরে আরতিকে উত্যক্ত করছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টার দিকে কনে আরতি কুমারী ও তাঁর হবু বর বিয়ের মঞ্চে দাঁড়ানো ছিলেন। একে একে আচার-রীতি পালন চলছিল। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনেরা মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন সেসব রীতি পালন। আরতির বোন আচার অনুযায়ী প্রথমে বরের কপালে সিঁদুরের তিলক এঁকে দেন। এরপর আরতির কপালে তিলক পরাতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় একপাশ থেকে এক যুবক আরতিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যান।
গুলিটি আরতির তলপেটে লাগলে তিনি পড়ে যান। গানের শব্দে গুলির আওয়াজ প্রথমে না বুঝা গেলেও পরিস্থিতি বুঝতেই মুহূর্তেই অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। আতঙ্কিত হয়ে অতিথিরা ছুটোছুটি করে অনুষ্ঠানস্থল ছাড়তে শুরু করেন। অচেতন আরতিকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান তাঁর পরিবার।
গুরুতর আহতাবস্থায় আরতিকে দ্রুত স্থানীয় সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বারাণসী ট্রমা সেন্টারে পাঠান। বর্তমানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
হাসপাতালে নেওয়ার সময় আরতি নিজেই বলেন, ‘দীনবন্ধু আমাকে গুলি করেছে।’
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানা যায়, অভিযুক্ত এই যুবক গত দুই বছর ধরে আরতিকে উত্যক্ত করে আসছিলেন বলে দাবি স্থানীয়দের। এমনকি এর আগে আরতির অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে দীনবন্ধু হবু বরের পরিবারকে নানাভাবে হয়রানি করেছিলেন, যার ফলে সেই বিয়েটি ভেঙে যায়।
অভিযুক্ত দীনবন্ধু ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকলেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর বাবা-মাকে আটক করেছে।
অভিযুক্তর বাবা রমাশঙ্কর চৌধুরী অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে আরতির কোনো সম্পর্কের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
অতিরিক্ত স্টেশন হাউস অফিসার চন্দন কুমার জানান, অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে এর আগেও একটি মদ–সংক্রান্ত মামলায় জেলে যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তাঁকে আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
এদিকে, উত্তর প্রদেশের বালিয়া জেলা থেকে আসা বরযাত্রীরা ঘটনার পরপরই ফিরে যান।