মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা ও জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে বাসা থেকে অফিস করতে এবং গণপরিবহন ব্যবহার করতে আহ্বান জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে বিদেশে গিয়ে বিয়ে করা বা ভ্রমণ করা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন তিনি। পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এই আহ্বান জানান মোদি।
হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘দেশপ্রেম মানে কেবল সীমান্তে জীবন উৎসর্গ করার ইচ্ছা নয়। এই সময়ে দৈনন্দিন জীবনে দায়িত্বশীল হওয়া এবং দেশের প্রতি কর্তব্য পালন করাই হলো প্রকৃত দেশপ্রেম।’
আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, সরবরাহব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় দেশবাসীকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, যেখানে সুযোগ আছে সেখানে মেট্রো ও গণপরিবহন ব্যবহার করুন। এ ছাড়া কার-পুলিং (একই গাড়িতে একাধিক যাত্রী যাতায়াত) এবং পণ্য পরিবহনে রেলওয়েকে প্রাধান্য দিয়ে পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে আনুন। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দেশের বৃহত্তর স্বার্থে কোভিডের সময়ের মতো কার্যকর পদক্ষেপগুলো পুনরায় চালুর আহ্বান জানান মোদি। যার মধ্যে রয়েছে বাসায় বসে কাজ (ডব্লিউএফএইচ), অনলাইন কনফারেন্স এবং ভার্চুয়াল মিটিং।
এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রী মোদি জনগণকে বিদেশে ছুটি কাটানো এবং দেশের বাইরে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন। আগামী এক বছর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সোনা না কেনার জন্যও আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া ভোজ্যতেলের ব্যবহার কমানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য উভয়ের জন্যই মঙ্গলজনক।
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে জুতো, ব্যাগ, অনুষঙ্গসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।
কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, রাসায়নিক সারের ব্যবহার ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনুন এবং কৃষিকাজে ডিজেলচালিত পাম্পের পরিবর্তে সৌরশক্তিচালিত সেচপাম্প ব্যবহার করুন। সেই সঙ্গে তিনি জনসাধারণকে বিদেশের বদলে দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন বেছে নিতে উৎসাহিত করেন।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বাহিনী এবং ইরানের মধ্যে তীব্র যুদ্ধের কারণে দুই মাস ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এই অবরোধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যাপক বেড়েছে। তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে অন্যান্য আমদানি পণ্যের দামও ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
ইরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে টোল বা কর দিতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরানকে টোল প্রদানকারী যেকোনো জাহাজ তারা আটক করবে।
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) জানিয়েছে, ইরানি অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জাহাজ এবং সেগুলোর ক্রুরা আটকা পড়েছেন।
যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ অনেক দেশ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ইরান রোববার ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে সতর্ক করে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হলে ‘তাৎক্ষণিক ও চূড়ান্ত জবাব’ দেওয়া হবে। এতে স্পষ্ট যে, এই সংকট সহজে কাটছে না।