কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে সাময়িক স্বস্তি ফিরল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। হাইকোর্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বভারতী চত্বরে কোনো রকম বিক্ষোভ করা যাবে না। উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বাসভবনের সামনে থেকে সমস্ত ব্যানার-পোস্টার খুলে ফেলতে হবে। মাইক বাজানোর ওপরও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। প্রশাসনিক ভবনসহ বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীরা যে তালা লাগিয়েছে, তাও ভেঙে ফেলতে হবে।
অচলাবস্থা কাটলে ছাত্রদের দাবি-দাওয়াও শোনা হবে বলেছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থা। তবে বিশ্বভারতীর চত্বর হিন্দু মৌলবাদীদের আখড়া হতে দেওয়া হবে না বলে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
বহুদিন ধরেই হিন্দু মৌলবাদী সংগঠন আরএসএস সমর্থক বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুত চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষকদের ক্ষোভ বাড়ছিল। চলতি বছরেই ১২ শিক্ষককে বরখাস্তের পাশাপাশি অর্থনীতি বিভাগের এক অধ্যাপকের কক্ষ ভাঙচুরের অভিযোগে গত শনিবার তিন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ছাত্র-ছাত্রীরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করেন। গত শনিবার থেকে চলতে থাকে ঘেরাও কর্মসূচি। বাসভবনে খাদ্যসংকট দেখা দিলে দুধ-কলা পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার উপাচার্য অসুস্থ হলেও চিকিৎসকদের অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
বিশ্বভারতীর ঘটনার জেরে যাদবপুর-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন আন্দোলনে নামে। উপাচার্যও অচলাবস্থা কাটাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে চিঠি দেন। এতেও সুরাহা হয়নি। তাই রেজিস্ট্রার দ্বারস্থ হন কলকাতা হাইকোর্টের।
গতকাল বিচারপতি রাজশেখর মান্থা বিশ্বভারতীর অচলাবস্থা দূর করতে পুলিশকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলেন। সেই সঙ্গে সমস্ত সিসিটিভি চালু করারও নির্দেশন দেন। তারপরই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে বিশ্বভারতী। ঐতিহাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজনীতির আখড়া হয়ে ওঠার জন্য বিজেপি এবং বর্তমান উপাচার্যকেই দায়ী করেছেন কংগ্রেস, সিপিএম ও তৃণমূল নেতারা।