ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগপত্র দেওয়ার আগে সরকার সমঝোতার অংশ হিসেবে তাঁর মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছিল। এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) রাজি করানোর জন্য। কিন্তু সিজেপি রাজি হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, সরকারের আশা ছিল—ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বহাল থাকলে সিজেপি এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারা সেটি মেনে নেবেন।
সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়া দুই মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং সিজেপির সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তাব দেন যে, নতুন একজন শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি সিজেপির বাকি সব আনুষঙ্গিক দাবিও মেনে নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করতে পারে বলে তারা আশা করেছিলেন। এমনটাই জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে সরকারি শীর্ষ সূত্র।
সরকারের এক সূত্র জানায়, ‘সরকার এই প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনকারীরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের সরাসরি পদত্যাগের দাবিতে অনড় ছিল।’ সিজেপির সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের দাবি, সরকারি দুই মন্ত্রী বলেছিলেন, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনার ক্ষমতা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। তাই মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে এবং শিক্ষামন্ত্রীর জায়গায় অন্য কাউকে আনা হতে পারে। তবে সিজেপি এই প্রস্তাব মানতে রাজি হয়নি।
সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, সিজেপির দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি আগেই মেনে নেওয়া হয়েছিল। একটি ছিল ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং অন্যটি ছিল আন্দোলন-সংক্রান্ত এফআইআর প্রত্যাহার করা। সূত্রের ভাষ্য, সাধারণত আন্দোলনের সময় যদি সরকারি সম্পদের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, তাহলে দায়ের করা এফআইআর পরে প্রত্যাহার করা হয়।
এছাড়া, নীট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়াও সরকার শুরু করেছিল বলে ওই সূত্র জানায়। এসব কারণে সরকারের আশা ছিল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রস্তাবে সিজেপি শেষ পর্যন্ত রাজি হবে।
তবে দীর্ঘ সময় যোগাযোগের কার্যকর পথ তৈরি না হওয়ায় অচলাবস্থা তৈরি হয়। এর ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি আরও কঠোর অবস্থান নেয়। আন্দোলনকারীরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকেন। এদিকে জনমতের চাপ বাড়তে থাকে এবং একাধিক দফা আলোচনা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত সরকার আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়।
শনিবার দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধান তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এরপর সিজেপি আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় রাজধানীতে চলা তাদের টানা ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।