হোম > বিশ্ব > ভারত

তৃণমূল শূন্য হলো পশ্চিমবঙ্গের ৮ জেলা, বাকিগুলোতেও মমতার ধরাশায়ী হওয়ার চিত্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ভারতের দুই রাজ্য বিধানসভার ভোট। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি পাল্টে গেছে। রাজ্যের ২৯৪টি আসনের (একটিতে ভোট বাকি) মধ্যে ২০৭টি আসন পেয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পথে, আর তৃণমূল নেমে এসেছে মাত্র ৮০টি আসনে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—ঘাসফুল শিবিরের দাপট কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।

‘তৃণমূল শূন্য’ ও খরাকবলিত জেলা

রাজ্যের বেশ কিছু জেলা এখন পুরোপুরি ঘাসফুল মুক্ত। এই জেলাগুলোতে বিজেপি একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছে (বন্ধনীতে যথাক্রমে মোট আসনসংখ্যা ও জয়):

পূর্ব মেদিনীপুর (১৬/১৬) : শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে তৃণমূল পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন। ১৬টি আসনের সব কটিতেই জিতেছে বিজেপি।

পশ্চিম বর্ধমান (৯/৯) : আসানসোল ও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূল একটি আসনও পায়নি।

ঝাড়গ্রাম (৪/৪) ও পুরুলিয়া (৯/৯) : জঙ্গলমহলে গতবারের ফলাফল পুরোপুরি উল্টে দিয়ে বিজেপি ক্লিন সুইপ করেছে।

আলিপুরদুয়ার (৫/৫) ও জলপাইগুড়ি (৭/৭) : চা-বলয়ে তৃণমূলের পতন পরিষ্কার। জলপাইগুড়িতে গতবার জেতা তিনটি আসনও হারিয়েছে তারা।

দার্জিলিং (৫/৫) ও কালিম্পং (১/১) : পাহাড় ও সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির আধিপত্য বজায় রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের দুর্গে ধস: কলকাতা ও শহরতলি

তৃণমূলের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত এলাকাগুলোতেও এবার ফাটল ধরেছে:

কলকাতা (১১টি আসন) : গতবার ১১-০ থাকলেও এবার বিজেপি ছয়টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় ছাড়াও শ্যামপুকুরে শশী পাঁজা এবং রাসবিহারীতে দেবাশিস কুমারের মতো হেভিওয়েট মন্ত্রীরা হেরেছেন।

উত্তর ২৪ পরগনা (৩৩টি আসন) : গতবার এখানে তৃণমূল ২৮টি আসন জিতেছিল। এবার বিজেপি ২৩টি আসনে জয়ী হয়ে জেলাটি নিজেদের দখলে নিয়েছে। তৃণমূল পেয়েছে মাত্র ১০টি।

হাওড়া ও হুগলি: হাওড়ায় ১৬টির মধ্যে সাতটি এবং হুগলিতে ১৮ টির মধ্যে ১৬টি আসন জিতেছে বিজেপি। ধনেখালি ও চণ্ডীতলা ছাড়া হুগলির বাকি সব আসন হারিয়েছে তৃণমূল।

পূর্ব বর্ধমান: ১৬টি আসনের মধ্যে বিজেপি ১৪টি জিতেছে। বিজেপির ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি এখানে নারী ভোটারদের বড় অংশকে টেনেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

যেখানে ঘাসফুল টিকে আছে (আইসিইউ অবস্থা)

কিছু জেলায় তৃণমূল অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারলেও আসনসংখ্যা ব্যাপকভাবে কমেছে:

দক্ষিণ ২৪ পরগনা (৩১টি আসন) : তৃণমূলের সবচেয়ে কম শোচনীয় ফল এখানে। ২৯টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ১৯টি এবং বিজেপি ১০টি জিতেছে। ভাঙড় আসনে নিজের জয় ধরে রেখেছেন আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি।

মুর্শিদাবাদ (২২টি আসন) : গতবার ২০টি আসন থাকলেও এবার তৃণমূল নেমে এসেছে নয়টিতে। বিজেপি জিতেছে নয়টিতে, কংগ্রেস ও এজেইউপি পেয়েছে দুটি করে আসন এবং সিপিএম একটি।

মালদহ (১২টি আসন) : এখানে লড়াই হয়েছে সমানে সমানে (৬-৬)। গতবার তৃণমূল আটটি জিতেছিল।

বীরভূম (১১টি আসন) : অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে তৃণমূলের গড় দুর্বল হয়েছে। বিজেপি জিতেছে ছয়টিতে, তৃণমূল পাঁচটিতে।

পরাজয়ের নেপথ্যে প্রধান কারণ

তৃণমূল কংগ্রেস এসআইআরের মাধ্যমে আসনভিত্তিক ভোটার বাতিল এবং ইভিএম জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও রাজনীতি পর্যবেক্ষকেরা তাদের সরকারের কিছু ব্যর্থতার দিকেই বেশি জোর দিচ্ছেন। বিশেষ করে ১৫ বছরের শাসনে তৃণমূল নেতৃত্বে বেপরোয়া আচরণ এবং দীর্ঘ শাসনে ক্লান্ত মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা পরাজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন অনেকে। প্রধান কারণগুলো হলো:

১. অন্নপূর্ণা ভান্ডার: বিজেপির বর্ধিত ভাতার প্রতিশ্রুতি নারীদের একাংশকে তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ থেকে বিমুখ করেছে।

২. চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট: হাওড়া ও হুগলির শিল্পাঞ্চলে স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ।

৩. জঙ্গলমহলের অসন্তোষ: পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে আদিবাসী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ভোটের বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে।

৪. অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি: দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার ফলে তৈরি হওয়া প্রতিষ্ঠান বিরোধী হওয়া এবার তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

এই ফলাফল ২০২১ সালের ঠিক বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। এই পরিবর্তন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করল।

পশ্চিমবঙ্গেও এল বুলডোজার সংস্কৃতি: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো মাংসের দোকান ও তৃণমূল কার্যালয়

সঙ্গী করে ক্ষমতায় আরোহণ, সেই বিজেপির হাতেই পতন হয়েছে যে ৬ মুখ্যমন্ত্রীর

পদত্যাগে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ভারতের সংবিধানে এর সমাধান কী

পশ্চিমবঙ্গে সচিবালয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু, অনেক আমলার দপ্তরে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনে বিজয়কে সহায়তা করবে কংগ্রেস, পেতে পারে ২ মন্ত্রিত্ব

নতুন চুক্তি: একে অপরের ভূখণ্ডে সেনা পাঠাতে পারবে ভারত ও রাশিয়া

মমতা পদত্যাগ না করলে তাঁকে বরখাস্ত করা হোক: হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

সরকার গঠন করতে কংগ্রেসের সমর্থন চাইলেন বিজয়

খুলে নেওয়া হলো মমতার বাড়ির গলির মুখের ‘সিজার ব্যারিকেড’

কেন পদত্যাগ করব,‌ আমরা তো হারিনি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়