কয়েকটি গণমাধ্যমের সাম্প্রদায়িক স্বরে দেশের বদনাম হচ্ছে। এমনটাই মনে করেন ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রামনা। করোনা মহামারির প্রথম দিকে তাবলিগ জামাতকে করোনা সংক্রমণের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে বিদ্ধ করারও সমালোচনা করেন তিনি।
দিল্লির মার্কজ নিজামুদ্দিন গত বছর অনুষ্ঠিত তাবলিগ জামাতের চিল্লা নিয়ে এক মামলায় ভারতের সর্বোচ্চ আদালত ইউটিউব, ফেসবুক ও টুইটারের দায়বদ্ধতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। সাম্প্রদায়িক খবর প্রকাশ বা সম্প্রচার বিষয়ে সরকারি নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রধান বিচারপতি।
ভারতে করোনার প্রথম ঢেউ আছড়ে পড়ার পেছনে অনেকেই মুসলিমদের দায়ী করেছিলেন। বিশেষ করে, দিল্লিতে তাবলিগ জামাতের পর ভারতীয় একাধিক গণমাধ্যমে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ফলাও করে মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়। সেই প্রসঙ্গেই একটি মামলায় সর্বোচ্চ আদালত বলেন, কিছু মিডিয়ার সাম্প্রদায়িক সুর দেশের বদনাম করেছে। প্রধান বিচারপতি বলেন, 'কিছু মিডিয়া সবকিছুতেই সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিতে দেখে। ফলে বদনাম হয় দেশের।'
ভারতের সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে বলেন, শুধু সাম্প্রদায়িকই নয়, ভুয়া বা অতিরঞ্জিত খবরও প্রকাশ করছে। এটা দেশের পক্ষে ক্ষতিকর। ওয়েব পোর্টালগুলির বিরুদ্ধেও কঠোর মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্ট। তাঁদের মতে, পোর্টালগুলি শুধু বাহুবলিদের কথাই শোনে। ইচ্ছামতো বিচারপতি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লাগাতর লিখে চলেছে। সাধারণ মানুষকে নিয়েও তারা ভাবে না।