হোম > বিশ্ব > ভারত

মণিপুরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা, নিহত ১৩ 

ভারতের মণিপুর রাজ্যে আবারও নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। এই সহিংসতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে মণিপুরের টেংনুপাল জেলার লেইথু গ্রামে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম মিন্টের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে মণিপুরের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘সহিংসতাপ্রবণ এলাকাটিতে একদল সশস্ত্র বিদ্রোহী মিয়ানমারগামী অপর একদল সশস্ত্র বিদ্রোহীকে ফাঁদে ফেললে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।’ ওই কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ১৩ জনের মরদেহ দেখতে পায়। 
 
ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমরা ধারণা করছি, নিহতরা লেইথু গ্রামের না। সম্ভবত তাঁরা অন্য কোনো এলাকা থেকে এসে এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উল্লেখ্য, টেংনুপাল জেলার সঙ্গে মিয়ানমারের সরাসরি সীমান্ত রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই মণিপুর সরকার জানাচ্ছিল, মিয়ানমার সীমান্তে নাশকতাকারীরা সমবেত হয়ে মণিপুরে নাশকতা চালানোর চেষ্টা করে আসছে। 

এদিকে মণিপুরজুড়ে ইন্টারনেট সেবা আবারও সক্রিয় হয়েছে। মণিপুর সরকার গত রোববার জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের কিছু এলাকা বাদে সর্বত্র মোবাইল ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। মণিপুর সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও মোবাইল ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার কারণে জনগণের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে রাজ্য সরকার স্থগিতাদেশ শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’ 
 
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩ মে মেইতেই ও কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যকার উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে মণিপুর। এখন পর্যন্ত সহিংসতায় রাজ্যটিতে অন্তত ১৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

সমস্যার শিকড়ে রয়েছে মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কুকিসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর এক আইনি লড়াই। প্রায় এক দশক নানাভাবে মণিপুরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেইরা আইনিভাবে তফসিলি উপজাতি বা ‘শিডিউলড ট্রাইব’ (এসটি) তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের বক্তব্য, স্বাধীনতার আগে স্বাধীন মণিপুর রাজ্যে তাদের ‘উপজাতি’ হিসেবেই স্বীকৃতি ছিল। 

৩ মার্চ মণিপুর হাইকোর্ট এক নির্দেশে রাজ্য সরকারকে বলেছিলেন, মণিপুরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মেইতেই জনগোষ্ঠী তফসিলি উপজাতি হিসেবে সংরক্ষণ পেতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখতে। নির্দেশটি হাইকোর্টের ওয়েবসাইটে ১৮ এপ্রিল প্রকাশ করার পর বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে উপজাতি সম্প্রদায়। বিক্ষোভ দিন কয়েকের মধ্যেই সহিংস আন্দোলনে রূপ নেয়। মণিপুরের রাজধানী ইমফলের পাশের জেলা চূড়াচাঁদপুরে ৩ মে উপজাতি ছাত্রদের একটি মিছিল বের হয়। 

কিছুটা গুজবের কারণে এবং মিছিলে অস্ত্র থাকার খবরে সহিংসতা ছড়াতে শুরু করে ইমফলের আশপাশে, চূড়াচাঁদপুরে ও এর আশপাশের অন্তত আরও চার জেলায়। এক দিনে নিহত হন অন্তত ২০ জন। 

কুকিরা বলছেন, স্থানীয় সমাজ ও সরকারে ইতিমধ্যে প্রভাব বিস্তার করেন মেইতেইরা। তফসিলি উপজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পেলে কুকিদের বসবাসের স্থানে তাঁরা গিয়ে ঘাঁটি গড়তে পারেন। অর্থাৎ, জমি কিনতে পারেন এবং বসতি গড়তে পারেন। কিন্তু ধারণা করা হয়, সেখানে সংঘাতের পেছনে রয়েছে অসংখ্য অন্তর্নিহিত কারণ।

বিজিবির আপত্তিতে ৪.৩৫ কিমি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায়নি—দাবি আসাম সরকারের

৩৬ বছরে ৩০০ বিলাসবহুল হোটেলে বিল ফাঁকি, গ্রেপ্তার কুখ্যাত বিকিনি কিলারের শিষ্য

প্রেমিকার বাসায় নিয়ে স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার পর দুজনেরই পলায়ন

কিশোরী হত্যা ও গণপিটুনি: উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, ১৪৪ ধারা জারি

রাবণ অযোধ্যায় পৌঁছে গেছে, রামমন্দিরে চুরিই এর প্রমাণ: নির্মোহী আখড়ার প্রধান

জমি-ভবন ছাড়াই হাসপাতালে ৮৭ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, কাগজে-কলমে চলছে ৬ বছর ধরে

স্ন্যাপচ্যাটে পরিচিত প্রেমিকার ডাকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে, আটক হয়ে ফিরলেন পাকিস্তানে

আমাকে থামাতে হলে মেরে ফেলতে হবে: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পার্টি নয় প্রার্থনা, ভারতে জেন-জিদের মাঝে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘ভজন ক্লাবিং’

অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে মোদিকে হত্যার হুমকি