হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের আরও দুটি এলপিজিবাহী (রান্নার গ্যাস) ট্যাংকারকে পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) ‘বন্ধুপ্রতিম’ ভারতের এই জাহাজ দুটি হরমুজ অতিক্রম করে ওমান উপসাগরের দিকে রওনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
শিপিং ডেটা অনুযায়ী, ‘বিডব্লিউ এলএম’ এবং ‘বিডব্লিউ টিওয়াইআর’ নামক দুটি ট্যাংকার ৯৪ হাজার টনের বেশি এলপিজি নিয়ে ওমান উপসাগরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারতের পতাকাবাহী এই জাহাজ দুটি একে অপরের কাছাকাছি অবস্থান করে ঘণ্টায় প্রায় ২৭ কিলোমিটার গতিতে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল শুক্রবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক ভাষণে জানান, পাঁচটি ‘বন্ধু রাষ্ট্র’—চীন, রাশিয়া, ভারত, ইরাক এবং পাকিস্তানের জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের শত্রুদের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
ভারতের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ এই পথ দিয়েই আসে। গত দুই সপ্তাহে এই পথে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় ভারতে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছিল। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সিলিন্ডার কেনার হিড়িক পড়ে এবং অনেক রেস্তোরাঁ সাময়িকভাবে বন্ধ বা তাদের মেনু সংকুচিত করতে বাধ্য হয়। ইরান এখন ভারতীয় ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দেওয়ায় আগামী সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের পতাকাবাহী প্রায় ২০টি জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। এর মধ্যে ৫টি বড় ট্যাংকার (অপরিশোধিত তেলবাহী) সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছাকাছি নোঙর করে আছে এবং পার হওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। এ ছাড়া ভারত ওই অঞ্চলে আটকে থাকা তাদের খালি জাহাজগুলোতেও এলপিজি লোড করছে।
যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মধ্যে এ পর্যন্ত ভারতের চারটি জাহাজ—জগ বসন্ত, পাইন গ্যাস, শিবালিক এবং নন্দা দেবী এই প্রণালি অতিক্রম করেছে। শিপ ট্র্যাকিং ডেটা দেখাচ্ছে, জগ বসন্ত এবং পাইন গ্যাস প্রচলিত ছোট রুটের পরিবর্তে ইরানের লারাক এবং কেশম দ্বীপের মাঝখান দিয়ে একটি নতুন রুট ব্যবহার করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষকে নিজেদের পরিচয় নিশ্চিত করতেই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল।