হোম > বিশ্ব > ভারত

ভারতে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টকে লালগালিচা সংবর্ধনা, আলোচনা হবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বিহারে লালগালিচা বিছিয়ে মিন অং হ্লাইংকে স্বাগত জানানো হয়। ছবি: এক্স

মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর প্রধান ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং গত শনিবার ভারতে পৌঁছান। এ সময় ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের’ দেশটি তাঁকে লাল গালিচা বিছিয়ে স্বাগত জানায়। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এটি মিনের প্রথম বিদেশ সফর। পাঁচ দিনের এই সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীর খবরে বলা হয়েছে, দুই দেশের সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং তাঁর সফরকালে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা করবেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘উষ্ণ অভ্যর্থনা।’ তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিহার রাজ্যে লাল গালিচা বেয়ে মিন অং হ্লাইংয়ের হাঁটার ছবি প্রকাশ করেন।

সফরের শুরুতেই মিন অং হ্লাইং বৌদ্ধ তীর্থস্থান বুদ্ধগয়া পরিদর্শন করবেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এখানেই গৌতম বুদ্ধ বোধিলাভ করেছিলেন। মিন অং হ্লাইং নিজেকে প্রায়ই মিয়ানমারে বৌদ্ধ ধর্মের রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তবে তাঁর নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযানে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী ৭ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘তাঁর এই সফর আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শক্তিশালী আধ্যাত্মিক, ঐতিহাসিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি চলমান সহযোগিতার গভীরতাকেও তুলে ধরে।’

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আজ সোমবার নয়াদিল্লিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি দেশটির আর্থিক কেন্দ্র মুম্বাই সফর করবেন।

গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের জয়সওয়াল বলেন, ‘দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও কীভাবে জোরদার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক দিকও রয়েছে। দুই দেশ কীভাবে তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা হবে।’ নয়াদিল্লির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

গত এপ্রিলে মিন অং হ্লাইং মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। এর মাধ্যমে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পর তিনি বেসামরিক পদে থেকে তাঁর শাসন অব্যাহত রাখেন। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী চীন, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ আরও ২০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

মিয়ানমারের স্বৈরশাসক মিত্র দেশ চীন বা রাশিয়া নয়, বরং ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ’ ভারতই প্রেসিডেন্ট হিসেবে মিন অং হ্লাইংকে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাল। মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এই দুই নেতা মাত্র দুবার সাক্ষাৎ করেছেন। গত বছর চীন ও থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে সেই সাক্ষাৎ হয়েছিল।

মিন অং হ্লাইংয়ের ভারত সফরের খবর প্রকাশের পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সমান্তরাল সরকার হিসেবে পরিচিত ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি), দিল্লিতে বসবাসরত মিয়ানমারের নির্বাসিত নাগরিক এবং যুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীরা বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। ‘ইন্ডিয়া ফর মিয়ানমার’ নামের একটি সংগঠন জানিয়েছে, মিন অং হ্লাইংয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়ে তারা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে।

শরণার্থীরা অন্য মিয়ানমার নাগরিকদেরও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, মিন অং হ্লাইংয়ের “অন্যায় নিপীড়ন ও নৃশংস কর্মকাণ্ডের” কারণে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

মিয়ানমারের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে ভারত দেশটির সামরিক শাসকদের সঙ্গে কূটনীতি, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং এমনকি নির্বাচনসংক্রান্ত সহায়তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। গত এপ্রিলে মোদি মিন অং হ্লাইংকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে অভিনন্দন বার্তা পাঠান। একই সময়ে ভারত জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও সামরিক নেতাদের নেপিদোতেও পাঠিয়েছিল।

সমালোচকদের মতে, যে শাসনব্যবস্থা নিয়মিতভাবে নিজ দেশের জনগণের ওপর বোমা হামলা চালায় এবং মানুষ হত্যা করে, সেই সরকারকে ভারতের স্বীকৃতি ও সমর্থন দেওয়া মূলত ‘বন্দুকের জোরে প্রতিষ্ঠিত শাসনকে বৈধতা দেওয়ার’ শামিল। অন্যদিকে, অনেকের মতে দিল্লির এই সম্পৃক্ততা পুরোপুরি বাস্তববাদী কৌশল, যার লক্ষ্য মিয়ানমারে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ভারসাম্য রক্ষা করা।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিয়ানমার এমন এক ভূকৌশলগত অবস্থানে রয়েছে, যেখানে নয়াদিল্লির ‘সবার আগে প্রতিবেশী’, ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ এবং ‘মহাসাগর’নীতির মিলন ঘটেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সফর ‘দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী ও গভীরতর করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’

মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য এই সফর একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গত পাঁচ বছর ধরে রাজনৈতিক টিকে থাকার জন্য বেইজিং ও মস্কোর ওপর নির্ভরশীল থাকার পর নবনিযুক্ত এই প্রেসিডেন্ট এখন একটি প্রভাবশালী গণতান্ত্রিক প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তবে জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান এখনো অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন পরিচয়ে হাজির হওয়া মিন অং হ্লাইং সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।

ভারতের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে ভিয়েতনামের চুক্তি, নিতে চায় ইন্দোনেশিয়াও

মমতার ডাকে ৮০ বিধায়কের মধ্যে এলেন মাত্র ২০, শেষ পর্যন্ত বাতিল বৈঠক

কলেবর বাড়ছে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার, ঠাঁই পেতে পারেন রুদ্রনীল

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অমিত শাহর নীলনকশা, কী আছে এতে

ভারতের নয়া চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল রাজা সুব্রামানি

পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে আটক ৪০০ জন, চলছে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রচেষ্টা

মমতার ভাতিজা অভিষেককে চড়-থাপ্পড়, ডিম-পাথর নিক্ষেপ

ভারতে ডিটেনশন সেন্টারে যাওয়ার ভয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে ভিড় করছেন কথিত অভিবাসীরা

আইটি চাকরি ছেড়ে কৃষিকাজে, জমিতেই প্রাণ গেল প্রযুক্তিবিদের

ভারতে সরকারি কর্মীদের বেতন ৪০০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব