ভারতের সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় রাজনীতিকে বিদায় জানাবেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ভারতের জাতীয় সংসদ থেকেও পদত্যাগ করেছেন বিজেপির এই এমপি।
সংগীত শিল্পী হিসেবে আগেই নাম করেছিলেন বাবুল সুপ্রিয়। এর পর ২০১৪ সালে বিজেপির পক্ষে আসানসোল কেন্দ্র থেকে লোকসভার ভোটে জিতে সাংসদ হন। পরে প্রতিমন্ত্রীও করা হয় তাঁকে।
জানা যায়, গেল ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে জিতেও প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন বাবুল। সংগীত জগতের মতো রাজনীতিতেও প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন বাবুল। দিল্লি ও কলকাতায় তিনি সমান জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু তাঁর শত্রুও বাড়তে থাকে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভালো ছিল না বলে জানা যায়।
তবে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতারা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও বাবুলের ওপর আস্থা রেখেছিলেন। তাঁকে বিধানসভায় প্রার্থীও করা হয়। কিন্তু তিনি হেরে যান।
এর পর জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদলে কোপ পড়ে বাবুলের মন্ত্রিত্বের ওপরও। বাদ যান তিনি মোদীর মন্ত্রিসভা থেকে। তারপর থেকেই বাবুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিমানসূচক বিভিন্ন পোস্ট দিতে থাকেন।
আজ বিকেলে বাবুল তাঁর ফেসবুকে পোস্ট করেন, ‘সবার সব কথা শুনলাম-বাবা, মা, স্ত্রী, কন্যা, দু-একজন প্রিয় বন্ধুবান্ধব...সবটুকু শুনে বুঝে অনুভব করেই বলি, চললাম...Social Work করতে গেলে রাজনীতিতে না থেকেও করা যায়-নিজেকে একটু গুছিয়ে নিই আগে, তারপর...হ্যাঁ, সাংসদ পদ থেকেও obviously ইস্তিফা দিচ্ছি!’ তবে বিজেপি ছাড়ার কথা বলেননি তিনি।
বাবুল সুপ্রিয়ের পদত্যাগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ফেসবুকে কে কী লিখলেন আমি দেখি না।’ সেই সঙ্গে বাবুল আসলেই পদত্যাগ করেছেন কি–না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সভাপতি দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, ‘কে কোথায় যাচ্ছেন, আমি তা নিয়ে কেন বলব? রাজনীতিতে আসা বা ছেড়ে দেওয়া কারও ব্যক্তিগত বিষয়। আমি কিছু বলব না।’
বাবুলের পদত্যাগ প্রসঙ্গে তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় মন্তব্য করেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকা উচিত। বাবুলকেও তিনি ২০২৪ পর্যন্ত দায়িত্ব সামলানোর পরামর্শ দেন।
তবে তৃণমূলের মুখপাত্র কুনাল ঘোষের মতে, বাবুলের পদত্যাগ আসলে ‘নাটক’। মন্ত্রিত্ব ফিরে পেতেই বাবুল এমন নাটক করছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।