ভারতের কলকাতার সারসুনায় বন্দুকের মুখে এক ১৮ বছর বয়সি তরুণ, তাঁর বাবা ও এক বন্ধুকে বন্দুকের মুখে জোর করে পোশাক খুলিয়ে জনাকীর্ণ সড়ক দিয়ে নগ্ন অবস্থায় হাঁটাতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে ১৩ বছর বয়সি এক কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে। গত রোববার এ ঘটনা ঘটে। ওই তরুণের সঙ্গে নাবালিকা কিশোরীর সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে অভিযুক্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা-মা ও তাঁর মামা রাহুল বর্মনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় রাহুল বর্মনকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্তকারী এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রোববার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপূজা উপলক্ষে ওই তরুণ কিশোরীর সঙ্গে দেখা করতে বসুন্ধরা পার্কে যান। সেখানে অভিযুক্তরা তরুণ ও তাঁর বন্ধুকে আটক করেন বলে অভিযোগ। পরে ফোন করে তরুণের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অনলাইন ডেলিভারি কোম্পানিতে কাজ করেন রাহুল বর্মন। অভিযোগ, তিনি তরুণ, তাঁর বাবা ও বন্ধুর দিকে একটি পিস্তল তাক করে তাঁদের হত্যার হুমকি দেন। এ সময় তিনজনকেই মারধর করা হয়।
ওই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণের বাবা অভিযোগ করেছেন—রাহুল বর্মন তাঁকে নিজের ছেলেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করতে অথবা ওভেনে গরম করা একটি ছুরি দিয়ে আঘাত করতে বলেন। বাবা তাতে রাজি না হওয়ায় তিনজনকেই জোর করে পোশাক খুলতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাঁদের নগ্ন অবস্থায় প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ।
তরুণের বাবা বলেন, অভিযুক্তরা তাঁদের সরু গলি দিয়ে যেতে দেননি। বরং ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁদের জনাকীর্ণ প্রধান সড়কে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘যখন ওরা আমাদের নগ্ন করে ঘোরানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আমাদের সরু গলি দিয়ে হাঁটতে দেওয়া হয়নি। আমাদের জনাকীর্ণ প্রধান সড়কে নিয়ে যাওয়া হয়। লোকজন ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরে ভাইরাল হয়ে যায়।’
পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে মামলা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন, অপহরণ, বেআইনিভাবে আটকে রাখা, পুরুষদের শ্লীলতাহানি এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার। কলকাতা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার আওতায় এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, রোববার রাতে এবং সোমবার সকালে বসুন্ধরা পার্কের একদল ক্ষুব্ধ বাসিন্দা ওই কিশোরীর বাড়িতে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারসুনা থানার পুলিশ সদস্যদের ওই এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।