ভারতে এক দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক মণিপুরি তরুণীর বিরুদ্ধে। তাঁরা উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় ‘লিভ-ইন পার্টনার’ হিসেবে থাকতেন। অভিযুক্ত নারী লুনজিয়ানা পামাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহতের নাম ডাক হি ইউহ। তিনি একটি মোবাইল প্রস্তুতকারক কোম্পানিতে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেটার নয়ডার নলেজ পার্ক থানা এলাকার একটি বহুতল আবাসন কমপ্লেক্সে বাস করতেন লুনজিয়ানা ও ডাক হি। ঘটনার দিন রাতে দুজনের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। বিতণ্ডা বাড়তে থাকলে এ সময় পামাই ডাক হির বুকে ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর অবস্থায় ডাক হিকে লুনজিয়ানা পামাই নিজেই হাসপাতালে নিয়ে যান বলে জানা গেছে। জিআইএমএস হাসপাতাল থেকে খবর পাওয়ার পর নলেজ পার্ক থানার পুলিশ ঘটনাটি জানতে পারে।
ডাক হি ইউহকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা জানান, তাঁকে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকেই লুনজিয়ানাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত পামাই জানান, ডাক হি মদ্যপ অবস্থায় প্রায়ই তাঁকে মারধর করতেন। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন তিনি।
পুলিশকে পামাই আরও জানান, মদ্যপ অবস্থায় তাঁর প্রেমিক সহিংস হয়ে উঠলে তিনি ছুরিকাঘাত করেন। তাঁর দাবি, হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা বা ইচ্ছা তাঁর ছিল না; পরিস্থিতি সামলাতে গিয়েই তিনি আঘাত করেন।
নলেজ পার্ক থানার পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক ধারায় একটি মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ঠিক কতবার ছুরিকাঘাত করা হয়েছে এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।