ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক। আসনটিতে পেশায় পরিচারিকা এক নারীকে প্রার্থী করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এমনকি সদ্য প্রকাশিত ভোটার তালিকায় ওই নারী এখনো ভোটারই হননি। তালিকায় তাঁর নাম কলিতা মাজির পাশে লেখা রয়েছে ‘বিবেচনাধীন’। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা আর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা।
আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গতকাল সোমবার প্রথম দফায় ১৪৪ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে বিজেপি। সে তালিকায় আউশগ্রাম কেন্দ্র থেকে কলিতা মাজির নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা যায়, তাঁর নাম এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর ভোটার হিসেবে বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
কলিতা মাজি গুসকরা পৌরসভার মাঝপুকুর এলাকার বাসিন্দা। সংসারে স্বামী ও এক ছেলে রয়েছে। স্বামী সুব্রত মাঝি পেশায় প্লাম্বার এবং ছেলে সদ্যই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। নিজের জীবিকা নির্বাহের জন্য কলিতা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। সীমিত আয় সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে কাজ করে আসছেন।
তবে এবারই প্রথম নয়, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও এই কলিতা মাজিকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। তখনো তাঁর প্রার্থিতা ছিল চমকপ্রদ। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন অভেদানন্দ থান্ডারের কাছে। থান্ডার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। তবে কলিতা পরাজিত হলেও দল তাঁর ওপর আস্থা হারায়নি। বরং ২০২৬ সালের নির্বাচনেও তাঁকে আবার প্রার্থী করা হয়েছে।
ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ থাকার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই কলিতা মাজি জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় কিছু তথ্যে অসামঞ্জস্য থাকার কারণে তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল এবং তিনি প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন।
কলিতা দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে—কোনো সমস্যা হবে না। এখন শুধু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা।
এই প্রেক্ষাপটে বিরোধীরা অবশ্য নীরব থাকেননি। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আঁতাত রয়েছে বলেই এমন ঘটনা সম্ভব হয়েছে। তবে বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে এবং নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়া চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলিতা মাজিকে প্রার্থী করার পেছনে বিজেপির একটি কৌশল রয়েছে। সমাজের তৃণমূল স্তরের একজন নারী, যিনি দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে উঠে এসেছেন—এই ইমেজ ভোটারদের কাছে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, তফসিলি জাতি সংরক্ষিত এই কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সংযোগ একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেও কলিতা মাজির প্রশংসা করেছেন। তিনি তাঁকে ‘সমাজের জন্য এক দৃষ্টান্ত’ বলে উল্লেখ করেন। কলিতা নিজেও আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেছেন, ‘আমি সততা নিয়ে লড়ব এবং জিতব।’