হোম > বিশ্ব > ভারত

৪ ‘বাংলাদেশি’র সাজা মওকুফ করে দেশে পাঠাতে সরকারকে নির্দেশ ত্রিপুরা হাইকোর্টের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ফাইল ছবি

ত্রিপুরা হাইকোর্ট অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে দোষী সাব্যস্ত চার বাংলাদেশি নাগরিকের বাকি কারাদণ্ড মওকুফ করে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। দুটি মামলায় গত সোমবার বিচারপতি টি আমরনাথ গৌদের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রথম মামলায়, পাসপোর্ট (ভারতে প্রবেশ) আইন এবং বিদেশি নাগরিক আইন লঙ্ঘন করে ভারতে প্রবেশের অভিযোগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সীমান্তবর্তী জেলা ঊনকোটিতে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রাতিলাল দাস ও তাঁর স্ত্রী বিনীতা রানি দাস ছিলেন ওই ১৩ জনের মধ্যে, যাদের ২০২৫ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি শ্রীরামপুর-মনু সেতুতে বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে আটক করেছিল সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। ওই ১৩ জনকে ভারতে পাচারের চেষ্টা করার অভিযোগে তিন ভারতীয় নাগরিককেও আটক করা হয়েছিল।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজারের বাসিন্দা ওই দম্পতি কোনো বৈধ পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। পরে তাঁরা নিশ্চিত করেন যে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর ঊনকোটি আদালত রাতিলাল দাস ও বিনিতা রানি দাসকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাঁদের দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়।

রায়ের বিরুদ্ধে তাঁরা হাইকোর্টে আবেদন করেন। আবেদনে তাঁরা কারাদণ্ডের মেয়াদ কমানোর অনুরোধ জানান, যাতে তাঁরা দেশে ফিরে যেতে পারেন। তাঁরা বলেন, শুরু থেকেই তাঁরা নিজেদের পরিচয় গোপন বা ভুলভাবে উপস্থাপন করেননি। বিচারপতি গৌদের প্রশ্নের জবাবে রাজ্য সরকার হাইকোর্টকে জানায়, কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। এরপর সোমবার আদালত তাঁদের সাজা পরিবর্তন করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, ‘আপিলকারীদের তাঁদের নিজ দেশ বাংলাদেশে পুশব্যাক করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী আপিলকারীদের পুশব্যাক করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। আপিলকারীদের বাংলাদেশে পুশব্যাক না করা পর্যন্ত তাঁরা কারাগারে হেফাজতে থাকবেন। তবে তাঁদের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।’

দ্বিতীয় মামলায়, ২০২৪ সালের ৬ অক্টোবর ত্রিপুরার ধলাই জেলার আমবাসা রেলস্টেশনে দুই নারীকে আটক করে বিএসএফ। তাঁরা ভারতীয় নাগরিক—এমন প্রমাণ করার মতো কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাঁদের আটক করা হয়। ধলাই আদালত লিজা ও মনসুরা আক্তারকে জালিয়াতি এবং পাসপোর্ট (ভারতে প্রবেশ) আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। তাঁদের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে তাঁদের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কারাদণ্ডের মেয়াদ পরিবর্তন করে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন।