শ্রীকৃষ্ণকে নিয়ে কটূক্তি ও মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে ‘বাগেশ্বর ধাম’-এর প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর (বাগেশ্বর বাবা) বিরুদ্ধে উত্তর প্রদেশের আগ্রার একটি আদালতে ফৌজদারি মানহানির মামলা করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার আইনজীবী অজয় প্রতাপ সিং আগ্রা সিভিল কোর্টে মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রদেশে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বাগেশ্বর বাবা শ্রীকৃষ্ণের শারীরিক গঠন ও চরিত্র নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা কৃষ্ণের বংশধর বলে দাবি করা গোষ্ঠী ও ভক্তদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং সামাজিকভাবে তাদের হেয় করেছে।
সিভিল জজ কাঞ্চন কুমারের এজলাসে মামলাটির প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত বিষয়টি নথিভুক্ত করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের শিবপুরী জেলার করেরায় ‘রামকথা’ চলার সময় ভগবান রামচন্দ্র ও ভগবান কৃষ্ণের শারীরিক ভঙ্গির তুলনা করেন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী বলেছিলেন, ‘যাঁরা কৃষ্ণের ভক্ত আজ তাঁদের খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু কৃষ্ণ বড্ড বেশি বাঁকা। তিনি যখন দাঁড়ান, তখনো তিন জায়গা থেকে বাঁকা হয়ে থাকেন।’
বাদী পক্ষের আইনজীবী অজয় প্রতাপ সিং আদালতে যুক্তি দেন, দ্বাপর যুগে ভগবান কৃষ্ণ মানব রূপ ধারণ করেছিলেন এবং ভারতে আজও তাঁর বংশধরেরা বসবাস করছেন। তিনি যাদোন, জাদেজা এবং ভাটির মতো ঐতিহাসিক জাতিগোষ্ঠীকে কৃষ্ণের বংশধর হিসেবে উল্লেখ করেন।
আইনজীবী সিং দাবি করেন, তিনি নিজেও মাতুল সূত্রের ভিত্তিতে শ্রীকৃষ্ণের বংশধর। তাই ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর এই ধরনের মন্তব্য তাঁদের পরিবার ও সমগ্র সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার পাশাপাশি সামাজিক মর্যাদাও ক্ষুণ্ন করেছে।
বিতর্কিত এই ধর্মীয় বক্তাকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমীকরণ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ঘটনার একদিন আগেই সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সভাপতি অখিলেশ যাদব ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজক ও পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে তাঁরা এই ধরনের বিতর্কিত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ধর্মীয় বক্তাদের অনুষ্ঠান আয়োজন করা থেকে বিরত থাকেন।
অখিলেশ যাদবের এই মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। উত্তর প্রদেশ রাজ্য বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধুরী রামচরিতমানসের একটি শ্লোক উদ্ধৃত করে বলেন, ‘যাদের নিজেদের আচরণ ও ইতিহাস প্রশ্নবিদ্ধ, তাদের অন্যকে জ্ঞান দেওয়া মানায় না।’
উল্লেখ্য, বিতর্ক তৈরি হওয়ার পর ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী ভক্তির আবেগে কথাগুলো বলেছেন দাবি করে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু সেই ক্ষমা প্রার্থনার পরও বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার দিকে মোড় নেওয়ায় তাঁর ওপর আইনি চাপ আরও বাড়ল।