হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

উগ্র ডানপন্থার উত্থান মোকাবিলায় স্পেনে বামপন্থীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন, থাকছেন যাঁরা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বার্সেলোনায় জড়ো হয়েছেন ৩৩টি দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের নেতা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে উগ্র ডানপন্থার যে ঢেউ আছড়ে পড়ছে এবং হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর আন্তর্জাতিক সম্পর্কে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বিকল্প শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে ‘বৈশ্বিক প্রগতিশীল মোর্চা’। স্পেনের ঐতিহাসিক শহর বার্সেলোনায় গতকাল শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা।

ট্রাম্পের কঠোর নীতি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মানবিক সহায়তায় আকস্মিক বরাদ্দ হ্রাস, বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি এবং ন্যাটো ত্যাগ করার হুঁশিয়ারি আন্তর্জাতিক কূটনীতির চেনা ছক ওলটপালট করে দিয়েছে। এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্তের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ‘বহুপক্ষীয়বাদ’ রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।

২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচনে অতি-ডানপন্থীদের বিস্ময়কর উত্থানের পর ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক দলগুলো যে বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে, এই সম্মেলন তারই পাল্টা জবাব। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, শুক্রবারের ‘গ্লোবাল প্রগ্রেসিভ মোবিলাইজেশন’ সভার মূল লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র রক্ষা এবং গ্রিন ট্রানজিশন বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি নিয়ে একটি অভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা।

আজ শনিবারের সম্মেলনের মূল শিরোনাম রাখা হয়েছে ‘ইন ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসি’ বা গণতন্ত্র সুরক্ষায়। এটি মূলত লুলা ও সানচেজের যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া একটি ধারাবাহিক শীর্ষ সম্মেলনের চতুর্থ কিস্তি।

আলোচনায় বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি এই জোটে স্পেনের সঙ্গে কাঁধ মেলাচ্ছে লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার শক্তিশালী দেশগুলোও। সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন—

দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। ট্রাম্পের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি বরাবরই সোচ্চার। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাউমও আছেন সম্মেলনে। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম মেক্সিকোর কোনো রাষ্ট্রপ্রধান স্পেন সফর করছেন, যা দুই দেশের কূটনৈতিক বরফ গলার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ চীন সফরকালে বেইজিং থেকে বলেন, ‘আমাদের এই লড়াই কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নয়, এটি একটি বৈশ্বিক আদর্শের লড়াই। আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে সমাজতন্ত্র ও প্রগতিশীল চিন্তাধারার মাধ্যমে একটি মানবিক বিকল্প বিশ্ব গড়া সম্ভব।’

এদিকে হাঙ্গেরির সাম্প্রতিক নির্বাচনে কট্টরপন্থী নেতা ভিক্তর অরবানের পরাজয়কে বামপন্থী শিবিরের বড় জয় হিসেবে দেখছেন সানচেজ। তিনি বলেন, ‘হাঙ্গেরি প্রমাণ করেছে যে অতি-ডানপন্থার জোয়ার থামানো সম্ভব।’

বার্সেলোনার এই দুই দিনের আয়োজনে বিশ্বের ৩৩টি দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, প্রায় ৪০০ জন মেয়র এবং কয়েক হাজার অ্যাকটিভিস্ট (অধিকারকর্মী) অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের শেষ দিনে সানচেজ ও লুলা একটি যৌথ ঘোষণাপত্র পাঠ করবেন, যা আগামী দিনে বিশ্বরাজনীতির নতুন মেরুকরণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স

এনার্জি ড্রিংক নিষিদ্ধ করেছিলেন রমজান কাদিরভ, বাজারে আনলেন তাঁর ছেলে

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত সবাই, আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ইউক্রেনের

হাঙ্গেরিতে অরবানের পতনে কপাল খুলল ইউক্রেনের, পাচ্ছে ১০৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ

হাঙ্গেরিতে পা রাখলেই গ্রেপ্তার হবেন নেতানিয়াহু: হুঁশিয়ারি হবু প্রধানমন্ত্রীর

হাঙ্গেরিতে অরবানের পতন: দূর হলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইইউর পদক্ষেপের প্রধান বাধা

কোরআন পোড়ানো ভ্যালেন্টিনার যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ইতালিতে বৈশাখী উৎসবে গুলি, দুই ভারতীয় নিহত

কিয়েভে বন্দুকধারীর গুলি ও জিম্মি-কাণ্ড, নিহত ৬

ইউরোপে ফুরিয়ে আসছে জেট ফুয়েল, চলবে আর ছয় সপ্তাহ

কোনো সরকার পছন্দ না হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে আলোচনায় বসা: রাশিয়া