ইউক্রেনের নাগরিক ইয়ারনা এরিয়েভা এবং সাভিয়াতটসলাব ফুরসিন বিয়ে করেন গত বৃহস্পতিবার। ওই দিনই ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। ইয়ারনা এরিয়েভা এবং সাভিয়াতটসলাব ফুরসিনের বিয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হয়। কিন্তু, বিয়ের প্রথম দিনটি তাঁদের অতিবাহিত হয়েছে রাইফেল সংগ্রহ ও ইউক্রেনকে রক্ষার প্রস্তুতি নিতে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এরিয়েভা ও ফুরসিন উভয়ই টেরিটোরিয়াল ডিফেন্স ফোর্সের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন, যা ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি শাখা এবং বেশির ভাগ স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে গঠিত। অস্ত্র নিয়ে এই দম্পতি তাঁদের রাজনৈতিক দল ইউরোপীয় সলিডারিটি অফিসের দিকে রওনা হন।
এই দম্পতি বলেন, এই মুহূর্তে আমরা যা করতে পারি তা করছি। সুতরাং অনেক কাজ করতে হবে। কিন্তু তারপরেও আমি আশা করি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
২০১৯ সালে কিয়েভে একটি আন্দোলনে ইয়ারনা এরিয়েভা এবং সাভিয়াতটসলাব ফুরসিনের পরিচয় হয়।
আজ শনিবার সকাল থেকেই কিয়েভে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিবিসি জানায়, কিয়েভের মায়দান স্কয়ারে প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ছাড়া কিয়েভের ত্রয়েশ্চিনা এলাকা থেকেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কিয়েভের কামানের গোলার শব্দ কয়েক মাইল দূর থেকে শোনা গেছে।
ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরের চিড়িয়াখানার কাছে এবং শুলিয়াভকা এলাকায় ৫০টিরও বেশি বিস্ফোরণ খবর পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কিয়েভ দখল করতে চারপাশ থেকে হামলা করেছে রাশিয়া।
কিয়েভের পেরেমোহি অ্যাভিনিউতে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ ও জ্বলন্ত আগুন দেখা গেছে।
ইউক্রেনে হামলা চালানোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও কানাডায় থাকা পুতিন-লাভরভের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র পুতিন-লাভরভের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।