হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় চীনের নেতৃত্বে যুদ্ধজাহাজের যৌথ মহড়ায় রাশিয়া ও ইরান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

সাইমন’স টাউন বন্দরে নৌমহড়ায় চীন, রাশিয়া ও ইরানের যুদ্ধজাহাজ। ছবি: এএফপি

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং তেলবাহী ট্যাঙ্কার জব্দের ঘটনায় ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এ অবস্থার মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে কেপটাউন উপকূলে নৌ মহড়া শুরু করেছে চীন, রাশিয়া ও ইরান। গতকাল শুক্রবার চীনের নেতৃত্বে সপ্তাহব্যাপী এ মহড়া শুরু করে যুদ্ধজাহাজগুলো।

বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর প্রতিবেদনে জানা যায়, গত বছর উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের অধীনে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, মহড়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও জলদস্যুবিরোধী কার্যক্রমের অনুশীলন করা হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করা হবে।

চীন, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরে ব্রিকসের সদস্য। আর ইরান ২০২৪ সালে এই জোটে যোগ দেয়। এমন সময় ইরানের নৌবাহিনী এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে, যখন দেশটির ভেতরে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে।

ব্রাজিল, ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ব্রিকস জোটের অন্যদেশগুলো এ মহড়ায় অংশ নেবে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্র জানান, আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই মহড়া চলবে। তবে এই মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সব দেশের নাম তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

কেপটাউনের দক্ষিণে সাইমন্স টাউনে ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরের মিলনস্থল। সেখানে অবস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান নৌঘাঁটির বন্দরে চীন, রাশিয়া ও ইরানের জাহাজগুলোকে যাতায়াত করতে দেখা গেছে। নৌ মহড়ায় চীনের জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৬১ মিটার দীর্ঘ ডেস্ট্রয়ার শ্রেণির যুদ্ধজাহাজ ‘তাংশান’। অন্যদিকে রাশিয়ার বাল্টিক ফ্লিট জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ আফ্রিকায় তুলনামূলকভাবে ছোট একটি যুদ্ধজাহাজ ‘স্তোইকি’ এবং একটি রসদ সরবরাহকারী ট্যাংকার পাঠিয়েছে।

এই মহড়াটি গত বছরের নভেম্বরের শেষদিকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু একই সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় জি-২০ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় কূটনৈতিক কারণে মহড়াটির সময়সূচি পেছাতে হয়।

এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই মহড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার সম্পর্ককে আরও তিক্ত করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আফ্রিকার সবচেয়ে উন্নত অর্থনীতি ও মহাদেশটির একটি প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকা ট্রাম্প প্রশাসনের বিশেষ সমালোচনার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জারি করা এক নির্বাহী আদেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা ‘বিশ্বমঞ্চের অশুভ শক্তিগুলোকে’ সমর্থন করছে। দেশটিতে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধ করার অন্যতম কারণ হিসেবে ইরানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া প্রায়ই ব্রিকসের বিভিন্ন ফোরাম ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে থাকে।

দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে, তারা জোটনিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে এবং নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছে। তবে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্তে রাশিয়ার উপস্থিতি এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। ২০২৩ সালে বাইডেন প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল যে, তারা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি রুশ জাহাজকে সাইমন’স টাউন নৌঘাঁটিতে ভিড়তে দিয়েছে এবং সেখান থেকে ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য রাশিয়ায় পাঠাতে অস্ত্র তোলার সুযোগ দিয়েছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

রুশ এবং ইরানি যুদ্ধজাহাজগুলোকে আতিথেয়তা দেওয়ার বিষয়ে দেশের অভ্যন্তরেও সমালোচিত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেশটির জোট সরকারের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, ‘কঠোর নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত’ রাশিয়া ও ইরানকে অন্তর্ভুক্ত করে এ ধরনের মহড়া আয়োজনের বিরোধিতা করে তারা।

এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, ‘ব্রিকস সহযোগিতা’র নামে এই মহড়াগুলো রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া আর কিছু নয়। এগুলোর উদ্দেশ্য প্রকৃত বিষয়টি আড়াল করা। বাস্তবে সরকার রাশিয়া ও ইরানের মতো বিতর্কিত এবং নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক বেছে নিচ্ছে।

পুতিনকে রাশিয়া থেকে ধরে নিয়ে যেতে চান ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী

ডেভিড-ভিক্টোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক চরমে, আইনজীবীর মাধ্যমে যোগাযোগ চান ব্রুকলিন বেকহাম

ইউক্রেনে ফের শক্তিশালী ওরেশনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পশ্চিমাদের কঠোর বার্তা দিল রাশিয়া

শব্দের চেয়ে ১০ গুণ গতির মিসাইল দিয়ে ইউক্রেনে আঘাত রাশিয়ার

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে অস্তিত্ব সংকটে ন্যাটো

মার্কিনরা গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করলে ডেনিশরা ‘আগে গুলি করবে, পরে অন্য আলাপ’

মার্কিন আগ্রাসন থেকে বিশ্ব ব্যবস্থা রক্ষায় ভারত ও ব্রাজিলের ভূমিকা চান জার্মান প্রেসিডেন্ট

বিশ্বব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে যুক্তরাষ্ট্র: জার্মান প্রেসিডেন্ট

পুতিনের মিত্র কাদিরভকে রাশিয়া থেকে অপহরণ করুক যুক্তরাষ্ট্র—চাওয়া জেলেনস্কির

ভেনেজুয়েলার বিনিময়ে ২০১৯ সালেই ট্রাম্পের কাছে ইউক্রেন চেয়েছিল রাশিয়া