ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তাঁর দেশকে যুক্তরাষ্ট্র যে নিরাপত্তা গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা দিতে চেয়েছে, সে সংক্রান্ত নথি ‘শতভাগ প্রস্তুত।’ চলতি সপ্তাহে আরব আমিরাতের আবুধাবিতে রাশিয়ার সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার পর এই নথি স্বাক্ষরের জন্য ‘শতভাগ প্রস্তুত।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ এই চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এবং ইউক্রেনের পার্লামেন্টে পাঠাতে প্রস্তুত।
জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা মানে প্রথমত যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা। নথিটি শতভাগ প্রস্তুত, এখন আমরা আমাদের অংশীদারদের কাছ থেকে স্বাক্ষরের তারিখ ও স্থান নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় আছি।’ ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ অর্জনের লক্ষ্যও ইউক্রেনের জন্য একটি ‘অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত কাঠামোর আওতায় মস্কোর প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার ও শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা বৈঠক করেন। আলোচনায় কোনো চুক্তি না হলেও মস্কো ও কিয়েভ—উভয় পক্ষই জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে আরও আলোচনায় বসতে আগ্রহী। আলোচনার পরপরই এক মার্কিন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, আগামী রোববার আবুধাবিতেই আবার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জেলেনস্কি বলেন, এই বৈঠকগুলো সম্ভবত ‘দীর্ঘ সময় পর’ প্রথম ত্রিপক্ষীয় আলোচনা, যেখানে শুধু কূটনীতিক নয়, ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—তিন পক্ষেরই সামরিক প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। তিনি স্বীকার করেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার অবস্থানের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে এবং আঞ্চলিক প্রশ্ন এখনো একটি বড় অমীমাংসিত ইস্যু।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনায় ইউক্রেন সংকটের সমাধান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে কথা বলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিন জানিয়েছে, শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে হলে ইউক্রেনকে অবশ্যই পূর্বাঞ্চলের সেই সব এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে, যেগুলো রাশিয়া অবৈধভাবে সংযুক্ত করেছে, যদিও এখনো পুরোপুরি দখল করতে পারেনি।
জেলেনস্কি বলেন, মস্কো চায়—ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলের কিছু অঞ্চল ছেড়ে দিক, কিন্তু কিয়েভ তার অবস্থান থেকে সরে আসেনি। ইউক্রেনের দাবি, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা অবশ্যই বজায় রাখতে হবে। জেলেনস্কি বলেন, ‘এগুলো দুটি মৌলিকভাবে ভিন্ন অবস্থান—ইউক্রেনের এবং রাশিয়ার। আমেরিকানরা একটি সমঝোতার পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘সব পক্ষকেই সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’