ইউক্রেনের লুহানস্ক অঞ্চলের একটি স্কুলে শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। আহত হয়েছে অনেকে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
গতকাল লুহানস্কের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্হি হাইদাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে বলেছেন, রুশ বাহিনীর গোলার আঘাত থেকে বাঁচতে প্রাণভয়ে লুহানস্কের বিলোহোরিভকা গ্রামের অন্তত ৯০ জন মানুষ একটি স্কুল ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে শনিবার রুশ বাহিনী ভয়াবহ বোমা হামলা করেছে। এতে দুই জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর আগের দিন রুশ সেনারা গ্রামটির একটি ক্লাবঘরে হামলা চালিয়েছিল।
স্কুলটিকে একটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল, যেখানে ৯০ জন মানুষ লুকিয়ে ছিল। স্কুল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন সের্হি হাইদাই। তিনি বলেন, ‘বিলোহোরিভকা গ্রামটি লিসিচানস্কের কাছে অবস্থিত। এখানে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ করছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সেনারা।’
রাশিয়া এ হামলার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, রুশ বাহিনী ও রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী যোদ্ধারা ইউক্রেনের সেনাদের কোণঠাসা করার উদ্দেশে লুহানস্কে ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। প্রায় আট বছর ধরে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা লুহানস্ক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বিলোহোরিভকা গ্রামটি ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত সেভেরোদোনেৎস্ক শহরের নিকটবর্তী এলাকা।
এদিকে ইউক্রেনের গণমাধ্যম প্রাভদা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিলোহোরিভকা গ্রামটি যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সেখানে ব্যাপক লড়াই চলছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। আহত হয়েছেন কমপক্ষে তিন হাজার মানুষ।