যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফরাসি মদ ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে তাঁর প্রস্তাবিত বোর্ড অব পিস বা শান্তি পরিষদে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ যোগ দিতে চাপ দিতেই এই হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রী ট্রাম্পের এই হুমকিকে ‘বর্বর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ শুরুতে গাজা সংকট নিয়ে কাজ করবে বলে জানা গেছে। পরে তা অন্যান্য সংঘাতে সম্প্রসারিত হবে। তবে এই উদ্যোগ জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মাখোঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট এই উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করতে চান।
মাখোঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, ‘সে কি আসলেই এমনটা বলেছে? ঠিক আছে, কেউ তো তাঁকে চায় না। কারণ, সে খুব শিগগিরই ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমি তাঁর মদ আর শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব, আর তখন সে যোগ দেবে। তবে তাঁকে যোগ দিতেই হবে, এমন নয়।’
মঙ্গলবার মাখোঁ সুইজারল্যান্ডের দাভোসে এক দিনের সফরে যাচ্ছেন। সন্ধ্যায় তাঁর প্যারিসে ফেরার কথা রয়েছে। এলিসি প্রাসাদের সহকারীরা জানিয়েছেন, বুধবার পর্যন্ত সফর বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। ওই দিনই ট্রাম্প সুইস পাহাড়ি শহর দাভোসে পৌঁছাবেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আরেক দফা আক্রমণে ট্রাম্প মাখোঁর একটি ব্যক্তিগত বার্তা প্রকাশ করেন। ওই বার্তায় মাখোঁ বলেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের পদক্ষেপ তিনি বুঝতে পারছেন না। ফ্রান্সে ২০২৭ সালে মাখোঁর স্থলাভিষিক্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া মদ ও স্পিরিটসের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে। ট্রাম্প ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়ন গত গ্রীষ্মে স্কটল্যান্ডে একটি যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ বাণিজ্য চুক্তিতে একমত হওয়ার পর থেকেই ফরাসিরা এই শুল্ক শূন্যে নামানোর জন্য জোরালো লবিং করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র ফরাসি মদ ও স্পিরিটসের সবচেয়ে বড় বাজার। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্সের এসব পণ্যের রপ্তানি ছিল ৩৮০ কোটি ইউরো। বার্কলেজের ইউরোপীয় পানীয় গবেষণা বিভাগের প্রধান লরেন্স হোয়াট বলেন, ‘এভাবে বারবার হুমকি এলে শিল্পখাতে বিনিয়োগ করা আরও কঠিন হয়ে যাবে। কোম্পানিগুলোর জন্য নিজেদের বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হবে।’ তিনি বলেন, ‘তাদের আরও সতর্ক হতে হবে। কিছু নগদ অর্থ ধরে রাখতে হবে। বিনিয়োগ কমাতে হবে। কারণ যেকোনো সময় আসা ঝড় সামাল দেওয়ার প্রস্তুতি রাখতে হবে।’
মাখোঁর এক সহকারী বলেন, এলিসি প্রাসাদ ট্রাম্পের মন্তব্যের বিষয়টি নোট করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো তৃতীয় দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুল্ক হুমকি দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ইউরোপীয় দেশগুলো আলাদা করে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কয়েকটি ইউরোপীয় রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য শুল্ক বৃদ্ধির হুমকির জবাবে ৯ হাজার ৩০০ কোটি ইউরোর পাল্টা শুল্ক আরোপ এবং এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’—যা ট্রেড বাজুকা নামেও পরিচিত—ব্যবহারের কথাও বিবেচনা করছে।
ফরাসি কৃষিমন্ত্রী অ্যানি জেনেভার্দ টিএফ ১ টেলিভিশন চ্যানেলকে বলেন, ‘এটা বর্বর। আমাদের ভেঙে দেওয়ার জন্যই এটা করা হচ্ছে। এটা ব্ল্যাকমেলের একটি হাতিয়ার। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত আপত্তিকর।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে উপকরণ আছে। ইউরোপীয়দের দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা এমন উত্তেজনা বাড়তে দিতে পারি না।’
এর আগেও ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আমদানি করা মদ ও অন্যান্য অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলেন। গত বছরের মার্চেও, যখন ট্রান্স আটলান্টিক বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়ছিল, তখন এমন হুমকি দেন তিনি।