হোম > বিশ্ব > ইউরোপ

রোদঝলমল রাস্তায় নেমে এলেন বাসিন্দারা—ইউক্রেনের খেরসনে বিরল স্বস্তি

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

বুধবার রাস্তায় কুকুর নিয়ে বেরিয়েছিলেন খেরসনের অনেক বাসিন্দা। ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার ড্রোন ও গোলাবর্ষণে বছরের পর বছর বিপর্যস্ত ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসনে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে স্বস্তি ফিরেছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় শহরটির বাসিন্দারা সতর্কভাবে রোদঝলমলে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কাছের ওলেশকি শহরের ফ্রন্টলাইনে ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে খেরসনের একটি কিয়স্কের মালিক ওলেক্সান্দ্রা কোসেনকো বলেন, ‘সত্যি বলতে, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা সত্যিই অসাধারণ হবে।’

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বুধবার জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া ছয় দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। চলমান যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে এই সাময়িক বিরতি বাসিন্দাদের জন্য বিরল স্বস্তি নিয়ে এসেছে। ওলেশকির বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য ও ওষুধসহ জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পথ তৈরি করাই এই যুদ্ধবিরতির উদ্দেশ্য।

যুদ্ধবিধ্বস্ত শহরে স্বস্তির মুহূর্ত

দিনিপ্রো নদীর অপর পারে ওলেশকির অবস্থান। ২০২২ সালের নভেম্বরে রুশ দখল থেকে খেরসন পুনরুদ্ধার করে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এরপর থেকে নদীর অপর পাড়ে অবস্থানরত রুশ বাহিনী নিয়মিত গোলাবর্ষণ এবং প্রাণঘাতী ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। তবে উভয় পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ অস্বীকার করে।

নিরবচ্ছিন্ন হামলায় বহু বাসিন্দা শহরটি ত্যাগ করে অন্যত্র চলে গেছেন, বন্ধ হয়েছে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবন, জনশূন্য ফুটপাত এবং প্রধান সড়কের ওপর টাঙানো ড্রোন প্রতিরোধী জাল যুদ্ধের ভয়াবহতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। তবে এখনো বাস চলাচল করছে, কিছু দোকান ও ক্যাফেও খোলা রয়েছে।

বুধবার বাসিন্দাদের কেউ কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হন, কেউ বেঞ্চে বসে কফি পান করেন। ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎস বলেন, নিয়মিত গোলাবর্ষণে বিপর্যস্ত খেরসন যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে।

খেরসনের একটি কিয়স্কের মালিক ওলেক্সান্দ্রা কোসেনকো। ছবি: সংগৃহীত

কোসেনকো জানান, যুদ্ধবিরতির পর তাঁর কিয়স্কে ক্রেতার সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৫০ জনে পৌঁছেছে।

তবে স্বস্তির পাশাপাশি নতুন করে হামলা শুরুর আশঙ্কাও রয়েছে। রুশ বাহিনীর ফেলে যাওয়া স্থলমাইন এখনো বিপদের কারণ। এ ছাড়া ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টলাইনের অন্য অংশগুলোতে লড়াই চলছে। পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্কের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা এলাকাগুলো দখলে নিতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ বোমাবর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রুশ দখলদারত্বের অভিজ্ঞতা থাকা ৫২ বছর বয়সী পৌরকর্মী ওলহা চিউপিকোভা বলেন, ‘রাশিয়া প্রমাণ করেছে, তাদের বিশ্বাস করা যায় না।’

চিউপিকোভা জানান, যে কোনো মুহূর্তে উসকানিমূলক কোনো ঘটনা ঘটে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা বাসিন্দাদের মনে এখনো রয়ে গেছে।

কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে লন্ডনের পুলিশ

স্পেনে ২ ট্রেনের সংঘর্ষের আগে নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রের সঙ্গে চালকদের কথোপকথন ফাঁস

স্পেনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ: নিহত ৬৮, আহত শতাধিক

স্পেনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৪

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত বেড়ে ৩০

স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ১০

সার্বিয়ায় স্বৈরশাসকের পতনের পর ছাত্রদের তোপের মুখে গণমাধ্যম, ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ খবরের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা

ইউরোপের নেতারা ‘রাজনৈতিক মর্ষকামী’: লাভরভ

মেলানিয়া, নাকি পোপ—কার মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামল ওলেশকিতে

হঠাৎ সতর্কতায় যুক্তরাজ্যে পানি, ক্যানজাত খাবার ও রেডিও কিনতে ক্রেতাদের ভিড়