সাইপ্রাসের দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়নি বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, ইরান থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাইপ্রাসের দিকে ছোড়া হয়েছে।
এই বক্তব্যের পরপরই সাইপ্রাস সরকারের মুখপাত্র কনস্টান্টিনোস লেটিম্বিওটিস বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সাইপ্রাসের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে—এমন বক্তব্য ও খবরের বিষয়ে স্পষ্ট করছি, এটি সঠিক নয় এবং দেশের প্রতি কোনো হুমকির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
উল্লেখ্য, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এই ঘাঁটি প্রায়ই আলোচনায় আসে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে সাইপ্রাস সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই এবং এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাসচিব জন হিলি জানান, শনিবার দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইপ্রাস অভিমুখে ছোড়া হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন, ইরান সরাসরি সাইপ্রাস দ্বীপটিকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। সেখানে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতির কারণেই ওই এলাকাটি ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথে ছিল।
জন হিলি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য স্থানেও ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করতে ব্রিটিশ বাহিনী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান ইতিমধ্যে দুবাই, আবুধাবি, বাহরাইন ও দোহায় ব্যাপক পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষাসচিব বলেন, ‘আমাদের ঘাঁটি, আমাদের জনগণ এবং আমাদের মিত্রদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো ড্রোনগুলো আমরা ধ্বংস করছি। পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর এবং ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে।’
ব্রিটিশ বাহিনীর ওপর হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে তিনি জানান, বাহরাইনে ব্রিটিশ সেনাদের মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যে একটি ইরানি মিসাইল আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া ইরাকে অবস্থানরত ব্রিটিশ সেনাদের মাত্র ৪০০ মিটারের মধ্যে আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ব্রিটিশ বাহিনী ‘সক্রিয়’ প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন জন হিলি।