ইউরোপে কাজের ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে ভারতীয় রেস্তোরাঁকর্মীদের পাচার ও শোষণের অভিযোগ উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আইনশৃঙ্খলা সংস্থা ইউরোপোল জানিয়েছে, এসব কর্মীকে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে বাধ্য করা হতো। দেশে ফিরতে চাইলে তাঁদের ওপর সহিংসতার হুমকি দেওয়া হতো।
ইউরোপোলের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৭০ জন কর্মী (অধিকাংশই ভারতীয় নাগরিক) শেফ হিসেবে কাজের জন্য অভিবাসন ভিসা নিয়ে ইউরোপে যান। কিন্তু সেখানে তাঁদের দিয়ে বাসন ধোয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশন ও ব্যবস্থাপনার মতো কাজ করানো হয়। দীর্ঘদিন কম মজুরিতে কাজ করিয়ে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁগুলো প্রায় ৪০ লাখ ইউরো (প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার) মুনাফা করেছে বলে তদন্তকারীদের ধারণা।
এই ঘটনায় সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসে আটটি ভারতীয় রেস্তোরাঁর দুই মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রেস্তোরাঁগুলো তিনটি আন্তর্জাতিক চেইনের সঙ্গে যুক্ত। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, বেলজিয়াম, জার্মানি, লুক্সেমবার্গ, ফ্রান্স ও সুইজারল্যান্ডের একই চেইনের বা সংশ্লিষ্ট আরও কিছু রেস্তোরাঁয়ও একই ধরনের কর্মকাণ্ড হয়েছে।
ইউরোপোল বলেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা কর্মীদের নিয়োগ ও থাকার ব্যবস্থা করতেন। দেশে ফিরতে চাইলে তাঁদের সহিংসতার হুমকি ও আর্থিক জরিমানার ভয় দেখানো হতো। এমনকি ভারতে থাকা পরিবারের সদস্যদের ওপরও চাপ প্রয়োগ করা হতো, যাতে কর্মীরা কাজ চালিয়ে যান।
তদন্তে জড়িত সংস্থাটি জানিয়েছে, কর্মীদের দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ‘শারীরিকভাবে কঠিন শ্রম’ করতে হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের শ্রম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই মালিকের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অবৈধভাবে বিদেশি নাগরিক নিয়োগের সন্দেহ রয়েছে।
নেদারল্যান্ডসে বিশেষায়িত শেফ নিয়োগের জন্য ইউরোপীয় অর্থনৈতিক এলাকার (ইইএ) বাইরের দেশগুলোর উদ্যোক্তাদের একটি বিশেষ ভিসা ব্যবস্থা ছিল। ২০২২ সালে সেই ব্যবস্থা বাতিল করা হলেও পরিবর্তনকালীন ব্যবস্থায় ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ভিসা দেওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেই ব্যবস্থার সুযোগ নিয়েছেন বলে তদন্তকারীদের ধারণা।