ঢাকা: যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বেশি দিন করোনায় ভোগা জ্যাসন কেল্ক (৪৯) মারা গেছেন। তিনি সাড়ে ১৫ মাস হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা নিয়েছেন। এর পরেও সুস্থ না হওয়ায় চিকিৎসা গ্রহণ বন্ধ করলে শুক্রবার (১৮ জুন) তাঁর মৃত্যু হয়।
জ্যাসনের স্ত্রী সু কেল্ক (৬৩) ব্রিটিশ গণমাধ্যম মেট্রোকে বলেছেন, জ্যাসনের লড়াইটা অনেক বেশি হয়ে গিয়েছিল। তিনি ‘এভাবে আর বাঁচতে’ চাননি। তবে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মৃত্যুর সময় মা, বাবা, স্ত্রী, বোন, সন্তান ও নাতি-নাতনিরাও তাঁর পাশেই ছিলেন।
মেট্রোর এ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালের ৩ মার্চ জ্যাসনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। বাসায় আইসোলেশনে সুস্থ না হওয়ায় ২০২০ সালের ৩১ মার্চ লিডসের সেন্ট জেমস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তিনি এখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। দীর্ঘ দিন চিকিৎসা নিলেও সুস্থ না হওয়ায় তিনি বলেন, ‘আমার আর সুস্থ হওয়া হবে না’। ‘এভাবে আর বাঁচতে চাই না’ সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৮ জুন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া বন্ধ করে চলে আসার পরে ওই দিনই তাঁর মৃত্যু হয়।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জ্যাসনের কিডনি, ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পাকস্থলীতেও কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এ ছাড়া আগে থেকেই তাঁর টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং হাঁপানি ছিল। গত বছরের ৩ এপ্রিল থেকে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রেই চিকিৎসাধীন ছিলেন।
দীর্ঘদিনের চিকিৎসার মাঝে জ্যাসনের সুস্থতার আশাও জেগেছিল। ২০২১ সালের মার্চে টানা ১৫ দিন ভেন্টিলেটর ছাড়া শ্বাস নিয়েছেন। তখন সপ্তাহে একদিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছেন। পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে উন্নতি হলে চা, কেকও খেতে পারছিলেন। তবে মে মাসের শুরু থেকে আবার মাঝে মাঝে ভেন্টিলেটর প্রয়োজন হতো।
তাঁর স্ত্রী বলেন, চিকিৎসা বন্ধ না করতে জ্যাসনকে অনেক অনুরোধ করেছি। সে আসলে একটা সমাপ্তি চাচ্ছিল; হয় সুস্থ নয় মৃত্যু। এত দিনেও সুস্থ না হওয়ায় তিনি বলতেন, ‘আমি আসলে কখনো সুস্থ হব না’। এই পর্যায়ে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করলেও লড়ে যাওয়ার জন্য তাঁর মানসিক শক্তিটা আর কাজ করছিল না। তাই নিজেই চিকিৎসা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন। এর পরেও জ্যাসনকে সাহসীই বলতে চান সু। সুর মতে যে ‘‘লোকেরা হয়তো ভাবতে পারে না যে সে সাহসী। কিন্তু আমি মনে করি তিনি সত্যিই সাহসী। কারণ, একমাত্র সাহসী হলেই আপনি বলতে পারবেন—‘আমি আর এইরকম বাঁচতে চাই না’।’’