আফগানিস্তান-পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা সংঘাত নিয়ে মন্তব্য করার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তীব্র বাগ্যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ভারত আফগানিস্তানে পাকিস্তানি হামলার ‘নিন্দা’ করার পর পাকিস্তান ভারতের এই অবস্থানকে ‘লজ্জাজনক ভণ্ডামি’ বলে আখ্যা দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমানর ‘নিন্দা’ জানাচ্ছে ভারত। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এটি পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানের (এস্টাবলিশমেন্ট) আরেকটি আগ্রাসী পদক্ষেপ, যারা একটি সার্বভৌম আফগানিস্তানের ধারণার প্রতিই শত্রুভাবাপন্ন।’
এই মন্তব্যের জবাবে ইসলামাবাদ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া আসে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ভারতের এই অবস্থানকে ‘লজ্জাজনক ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন—আফগান মাটিতে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দিচ্ছে ভারত। গতকাল রোববার এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানে তাদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ভারতের হতাশা, যা এমন বক্তব্যে প্রতিফলিত হচ্ছে, তা বেশ বোধগম্য।’
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান কয়েক সপ্তাহ ধরে সংঘাতে জড়িয়ে আছে। ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘সরাসরি যুদ্ধ’ ঘোষণা করে এবং রাজধানী কাবুলসহ দেশের ভেতরের আরও গভীর এলাকায় সামরিক ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালায়। মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তর সংকটের কারণে এই সংঘর্ষ তুলনামূলক কম মনোযোগ পেলেও, এই সহিংসতা এশিয়ার এমন এক অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ জড়িত।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্কের অবনতি কাবুলের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার সঙ্গেও যুক্ত। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে পাকিস্তানি তালেবান ও আফগান তালেবান উভয়কেই সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে, যদিও ভারত তা অস্বীকার করে। একই সময়ে আফগানিস্তান ও ভারত পাকিস্তানকে এড়িয়ে নতুন বাণিজ্যপথ চালুর বিষয়ে আলোচনা জোরদার করেছে।
গত সপ্তাহের শেষ দিকেও ইসলামাবাদ ও কাবুল সীমান্তে পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ চালিয়ে যায়। পাকিস্তান শুক্রবার জানায়, ইসলামাবাদ ও আরও দুটি শহরের কাছে আফগান তালেবানের পাঠানো ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে আফগানিস্তান দাবি করে, পাকিস্তান তাদের ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালিয়েছে।
এর আগে, ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী প্রত্যাহারের পর আফগান তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে খারাপ হতে থাকে। গত চার বছরে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে পাকিস্তান জানিয়েছে।
কাবুল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ না করা পর্যন্ত অভিযান বন্ধ হবে না, এর আগে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এ মাসের শুরুর দিকে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে চীন আফগানিস্তানে বিশেষ দূত পাঠায়।